Main Menu

বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তির চেষ্টায় হয়নি-প্রধান বিচারপতি

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ে দেওয়া পর্যবেক্ষণে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে ইতিহাস বিকৃতির এই ঘটনা অসদাচরণ কি না তা খতিয়ে দেখার এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির। গতকাল রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘মিট দ্য রিপোর্টার্সে’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। এসব বক্তব্য এক্সপাঞ্জ (প্রত্যাহার) করতে যদি রিভিউ আবেদন করার প্রয়োজন হয়, তাহলে তা করা হবে।

মিট দ্য প্রেসে আইনমন্ত্রী ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়, তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফেরত আনা প্রসঙ্গে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এর আগে লিখিত বক্তব্যে আইন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ এবং বিচারক নিয়োগ ও শূন্য পদ পূরণের সরকারি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘‘ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণে ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তির চেষ্টায় হয়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি। এই মন্তব্য এ মামলায় সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। এটা ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং বাংলাদেশের ইতিহাসকে বিকৃত করার শামিল। এই মন্তব্য প্রধান বিচারপতির অসদাচরণের পর্যায়ে পড়ে কি না, তা খতিয়ে দেখার অবকাশ রয়েছে।

এটা খতিয়ে দেখার এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির। এটার একমাত্র কর্তৃপক্ষ মহামান্য রাষ্ট্রপতি। ’’

মন্ত্রী বলেন, ইতিহাস বিকৃতি যে হয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। স্বাধীনতা রাতারাতি আসেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটা পলিটিক্যাল মুভমেন্টের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জিত হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনগণের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। ’ রায়ে ইতিহাস বিকৃতির এই ঘটনা অসদাচরণের পর্যায়ে পড়ে কি না সেই প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা বলা মুশকিল। কারণ অসদাচরণের কোনো সংজ্ঞা এখন পর্যন্ত নেই। এটা খতিয়ে দেখতে হবে। অসদাচরণ বা অন্য কিছু হয়েছে কি না খতিয়ে দেখার অবকাশ রয়েছে। যদি হয়, তাহলে শাস্তির বিধান একমাত্র রাষ্ট্রপতির কাছে। ’

মন্ত্রী বলেন, ‘বিচারকদের অপসারণের বিধান যেটা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল তা সংসদে বাতিল হয়েছিল। রায়ের মাধ্যমে তা পুনর্বহাল হবে না। অর্থাত্ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল নেই। আবার ষোড়শ সংশোধনীও বাতিল করা হয়েছে। এখন কোনো ব্যবস্থা নিতে হলে সেটা রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার। ’

রিভিউ আবেদন করা হবে :

এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এই রায়ে যেসব অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর বক্তব্য রয়েছে, তা এক্সপাঞ্জ করার জন্য আবেদন জানানো হবে। যেহেতু এটি বড় রায়, ৭৯৯ পৃষ্ঠার এ রায়ে কোন কোন গ্রাউন্ডে রিভিউ করা হবে সেইগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করা হচ্ছে। এর জন্য কিছু সময় প্রয়োজন। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিদ্যমান বিধান অনুয়ায়ী যদি কোনো রায়ের বা রায়ের কোনো শব্দ বা মন্তব্য এক্সপাঞ্জ করার আবেদন করতে হয়, তাহলে রিভিউ আবেদনের সঙ্গেই করতে হয়। তাই ওই সব অপ্রাসঙ্গিক ও আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহার করার জন্য আমরা রিভিউ আবেদন করব। ’

ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে :

ষোড়শ সংশোধনীর এই রায়ের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী আরো বলেন, ‘জুডিশিয়ারি, লেজিসলেটিভ এবং এক্সিকিউটিভ—এই তিনটি বিভাগ হচ্ছে রাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। পথ চলতে একে অন্যের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে, সেটি মুখ্য নয়। আলাপ-আলোচনা করে সমাধান করে এগিয়ে চলাটাই মুখ্য। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ব্যক্তিগতভাবে না দেখে তিনটি চেয়ারকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এখানে তিন ব্যক্তি গৌণ, প্রতিটি চেয়ারই মুখ্য। আমরা চেয়ারকে সম্মান করব, আশপাশে অনেক কিছু থাকতে পারে। আমরা সেদিকে ফিরেও তাকাব না। ’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো পাওয়ার কনটেস্টে নামিনি। পথ চলতে ভুল বুঝাবুঝি হতেই পারে। এটা নিরসনে যে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সেসব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ’

রায় নিয়ে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা বিভিন্ন মন্তব্য করছেন; সেই সব মন্তব্যে তাদের শপথ ভঙ্গ হবে কি না জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এমনটা কাম্য নয়, আবার রায়ের মধ্যে আপত্তিকর ও অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্যও কাম্য ছিল না। এ রায়ে আমাদের এমন একটি জায়গায় আঘাত করা হয়েছে, যা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হতে পারে। তবে আদালতের প্রতি আমরা সব সময় শ্রদ্ধাশীল। ’

এমন আইন হবে না, যা সাংবাদিকবান্ধব নয় :

তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সাংবাদিকরা এটিকে নিজেদের অপরাধের ধারা মনে করবেন না। তথ্য-প্রযুক্তির উন্নতি ও সম্প্রসারণের ফলে সাইবার ক্রাইম বেড়েছে। এই অপরাধ মোকাবেলা করতেই এ আইন করা হয়েছে। তবে আমরা জানি, এটি নিয়ে আপনাদের আপত্তি রয়েছে। বিষয়টি স্পষ্ট করার প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নামে নতুন একটি আইন করা হচ্ছে। সেখানে বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে। এমন কোনো আইন করা হবে না, যা সাংবাদিকবান্ধব নয়। ’

সাগর-রুনি হত্যার বিচার পেতে অপেক্ষা করুন :

সাগর-রুনি হত্যার বিচার সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর শুধু মামলা করতেই অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ ২১ বছর। বঙ্গবন্ধুর স্বঘোষিত খুনিদের বিচারের আওতায় আনতে কয়েক যুগ অপেক্ষা করতে হয়েছে। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার হয়েছে। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর মামলা হয়েছে। এটি জটিল মামলাগুলোর একটি। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সকলেই এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। অপেক্ষা করুন। ’ তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ হবে। অপরাধীদের বিচারও করা হবে।

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে আনার চেষ্টা চলছে :

বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে যা যা প্রক্রিয়া করার দরকার, তা চলমান। এ নিয়ে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু খুনের ঘটনায় খুনিরা নিজেরা দোষ স্বীকার করেছে। তার পরও তাদের বিদেশে অ্যাম্বাসাডার, ফার্স্ট সেক্রেটারি, সেকেন্ড সেক্রেটারি করা হয়েছে। বিদেশের মিশনে পাঠানো হয়েছে। একসময় মনে করা হতো এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে না। কিন্তু বিচার হয়েছে। ’

Comments

comments






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Facebook

Likebox Slider Pro for WordPress