Main Menu

ফেরেশতার কান্না | মুহাম্মদ আতিক উল্লাহ

উপসাগরের পাশ্ববর্তী কোনো এক দেশে, একটি দীনী প্রতিষ্ঠানে কোনো পড়তো। মেয়েটে কুরআনে কারিমকে খুবই ভালোবাসত। সারাক্ষণ কুরআনে কারীম তিলাওয়াত করত। তার ভ্যানিটি ব্যাগে সবসময় একটা ছোট কুরআনে কারিম থাকতো। সুযোগ পেলেই তিলাওয়াত করতো। বাসে বসে কুরআন তিলাওয়াত করত। গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠেও কুরআন তিলাওয়াত বসতো। তার তিলাওয়াতও ছিল খুবই মিষ্টি মধুর। পাষাণ হৃদয় ব্যক্তির মনটাও ভিজে উঠতো তিলাওয়াত শুনে। তার তিলাওয়াতে অভূতপূর্ব এক আকর্ষণ ছিলো।

এভাবে দিন কাটলো। একবার মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লো। অবস্থা ক্রমশ: অবনতির দিকে যাচ্ছিলো। দ্রুত হসপিটালে স্থানান্তর করা হলো। কয়েকদিন পর মেয়েটা ইনতেকাল করলো। দুখিনী মা শোকে পাথর হয়ে গেলেন। কিছুতেই সোনার টুকরা মেয়ের কথা ভুলতে পারছিলেন না। সুযোগ পেলেই মেয়ের কামরায় গিয়ে বসে থাকতেন। মেয়ে এটা-ওটা নাড়াচাড়া করে মেয়ের ছোঁয়া পেতে চাইতেন। ঘ্রাণ পেতে চাইতেন।

একদিন রাতে নিজের কামরায় ঘুমিয়ে আছেন। হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলো। নিশি রাতেই মেয়ের কথা মনে হলো। উঠে মেয়ের কামরার দিকে গেলেন। কাছাকাছি যাওয়ার পর শুনলেন, কামরার ভেতর কিছু একটার আওয়াজ আসছে। কান্নার মিহি আওয়াজ। করুণ সুর। একজন দুজন নয়। অনেকের। মা ভয় পেলেন। কামরায় প্রবেশ করলেন না। সকালে ঘটনাটা পরিবারের সবাইকে বললেন। কেউ বিশ্বাস করল না। সবাই সেই কামরায় গেল। সেখানে কিছুই পেল না। শ্বশুর বললেন,
– বৌমা, এটা তোমার মনের ভুল।
পরের রাতেও একই ঘটনা। স্বামীকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তাকেও কামরার কাছে নিয়ে শোনালেন। স্বামীও অবাক। পরের দিন স্বামী-স্ত্রী মেয়ের কামরায় তন্নতন্ন করে খুঁজেও কিছু পেলেন না।

স্বামী পাড়ার মসজিদে গেলেন। ইমামা সাহেবকে বিষয়টা খুলে বললেন। সব কথা শুনে ইমাম সাহেব বললেন,
-আজ আমি আপনাদের সাথে থাকব। যাচাই করে দেখব, বিষয়টা আসলে কি?

সবাই চুপচাপ আরেক কামরায় বসে আছেন। আজ কী ঘটে দেখার জন্য। রাত যখন একটা ভাজল, তখনই সেই করুণ, মিহি আর অপূর্ব কান্নার আওয়াজ ভেসে এলো। এমন সুর যে সবার কান্না পেয়ে গেলো। গা শিউরে উঠল। রোম খাড়া হয়ে গেলো এ অপার্থিব আওয়াজ শুনে। ইমাম সাহেব কেঁদে ফেললেন। তিনি বললেন :
-আল্লাহু আকবার। এটাতো ফেরেশতাদের কান্নার আওয়াজ। ফেরেশতারা প্রতি রাতে এই সময়, মেয়েটার তিলাওয়াত শুনতে আসত। মেয়েটা বোধহয় প্রতি রাতে এই সময়ে তিলাওয়াত করত। আর ফেরেশতারা তন্ময় হয়ে শুনতো। এখন সে তিলাওয়াত শুনতে না পেয়ে ফেরেশতারা প্রতিদিন তার শোকে কাঁদতে আসে। সুবহানাল্লাহ।

জীবনের ক্যানভাসে আঁকা গল্প : পৃষ্ঠা-১৩

Comments

comments






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Facebook

Likebox Slider Pro for WordPress