Main Menu

পরমাণু বিশ্বে বাংলাদেশের প্রবেশ

 

১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প : রূপপুর থেকে দেশের প্রয়োজনের ১০ ভাগ বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে : দেশের কিছু শিক্ষিত লোক আছেন, তারা সব কিছুতে সরকারের বিরোধিতা করেন : বিএনপি দেশের উন্নয়নের কথা কখনোই ভাবে না : ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব
পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের চুল্লির জন্য কংক্রিটের মূল স্থাপনা নির্মাণের উদ্বোধন করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আজকের দিনটি আমাদের জন্য সত্যি আনন্দের। কারণ আমরা পরমাণু বিদ্যুতকেন্দ্রের মূল কাঠামোটা নির্মাণ শুরু করছি। অর্থাৎ, আমরা পরমাণু বিশ্বে প্রবেশ করলাম।

এক লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প উল্লেখ করে তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ বেশি হয়। কিন্তু একবার চালু হয়ে গেলে অনেক দিন চলে। রূপপুর কেন্দ্র থেকে দেশের প্রয়োজনের ১০ ভাগ বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। দেশের কতিপয় শিক্ষিত লোকের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু লোক আছেন, যারা উচ্চশিক্ষিত। তারা সব কিছুতে সরকারের বিরোধীতা করেন। বঙ্গবন্ধু তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে এমন লোকদের সম্পর্কে লিখেছেন, ‘পরশ্রীকাতর’। অর্থাৎ এরা অপরের ভালো দেখতে পারে না। এইসব লোকেরা আমাদের করে দেয়া টেলিভিশনে বসে সরকারের বিরুদ্ধে ইচ্ছেমতো বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বিএনপি নেত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, একজন ভালো কাজ করলে অপরজনের উৎসাহ থাকে না। তার গা জ্বালা করে। তারা অবান্তর প্রশ্ন তোলেন। জনগণকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু দেশের উন্নয়নের কথা কখনোই ভাবেন না।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পৌণে ১টায় পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক কেন্দ্রের উদ্বোধনের পর এক সুধীসমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সুধীসমাবেশে প্রায় ২০ মিনিট বক্তব্য রাখেন। তিনি এই প্রকল্পের উদ্বোধনের জন্য রূপপুর যান হেলিকপ্টারে।
দেশের পরমাণু শক্তি প্রকল্পকে অত্যন্ত স্বচ্ছ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে পারমাণবিক এবং রেডিওলজিক্যাল নিরাপত্তার উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছে।
অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে পারমাণবিক নিরাপত্তার উপর আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গাইডলাইন অক্ষরে-অক্ষরে অনুসরণ করছি। তিনি বলেন, অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে আমরা আমাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছি। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ সংক্রান্ত সকল ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং প্রটোকলে অনুস্বাক্ষর করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নেই। জাতির জনক আমার পিতা সপরিবারে জীবন দিয়েছেন। আমি আপনাদের জন্য কিছু করতে চাই। দিয়ে যেতে চাই আগামী প্রজন্মকে নতুন কিছু। তিনি বলেন, হাত পেতে নয়, ভিক্ষা নিয়ে নয়, নিজের যা আছে তাই নিয়ে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে চলতে চাই, দাঁড়াতে চাই। তিনি আরো বলেন, ছয় বছর দেশে আসতে পারিনি। রিফিউজি হয়ে থাকতে হয়েছে দেশে দেশে। দেশের মানুষের সব অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশের মানুষের জন্য নিজের জীবন বাজি রেখেই দেশে পা রেখেছিলাম। ইনশাআল্লাহ দেশটাকে সোনার বাংলায় গড়ে তুলব। ২০২১ সালের সকালে স্বাধীনতার সূর্বণজয়ন্তী পালন করব বলে ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।
এই সংক্ষিপ্ত ভাষণে তিনি পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রসহ নানা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পারমাণবিক বিদুৎতকেন্দ্রে ‘আমরা নিরাপত্তার বিষয়টি খুব গুরুত্বেও সঙ্গে নিয়েছি।’ এ জন্য স্বাধীন পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কমিশন গঠন করা হয়েছে। যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। পরিবেশ ও মানুষের কোনো ক্ষতি না হয় সে ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে এগিয়েছি, পদক্ষেপ নিয়েছি। এ জন্য সেনাবাহিনী, পুলিশসহ অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রকল্পের কাজে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের ট্রেনিংয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কিন্তু কিছু উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি আছেন, যারা সব কিছুতেই ভয় পান। আমরা কিছু করতে গেলেই তারা প্রশ্ন তোলেন। তাদেরকে পরশ্রীকাতর বলে তিনি পুনরায় মন্তব্য করেন।
ইউরোনিয়ামের বর্জ্য রাশিয়া নিয়ে যাবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশের মতো একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ এ বর্জ্য বহন করতে পারবে না। এ জন্য ‘আমি রাশিয়াকে বলেছি- বর্জ্য তাদের নিয়ে যেতে হবে।’ তারা রাজি হয়েছে। বর্জ্য নিয়ে যাওয়ার জন্য রাশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তিও হয়েছে।
সুধীসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, একটি স্বাধীন দেশ উন্নত, সমৃদ্ধশালী হবে। স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে চলবে। আমি এবং আমার সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রূপপুরে বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১৯৬৬ সালে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখানে না করে প্রকল্পটি পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেন। আমার বলতে দ্বিধা নেই, সেই প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন বিশিষ্ট পারমাণবিক বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ২১ বছর যারা দেশের ক্ষমতায় ছিল, তারা পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ৯৬ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেই। এ জন্য আন্তর্জাতিক কিছু নিয়মকানুন মানতে হয়, সময় লাগে। এর মধ্যে আমাদের পাঁচ বছর শেষ হয়ে যায়। ২০০১ সালের নির্বাচনে স্বাভাবিকভাবে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসে। আবারো থেমে যায় এই প্রকল্প।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ২০০৮ সালের আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়। এর ভিত্তিতে নির্বাচনের পর ক্ষমতায় এসে আমরা আবারো উদ্যোগ নেই এই বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনের। ২০১০ সালের ১০ নভেম্বর জাতীয় সংসদে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ জন্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হয়। কিন্তু এ প্রকল্পে অনেক অর্থের প্রয়োজন। ‘আমি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট মি. পুতিনকে প্রস্তাব দিলে তিনি আমাদের আশ্বাস দিলেন, একটি পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ করে দেয়ার। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালের ২ নভেম্বর রাশিয়ান ফেডারেশন ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে প্রকল্প নির্মাণে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতার পালবদলের পর ক্ষমতাসীনরা প্রকল্পটি পরিত্যক্ত করে দিলেও সত্যি আজ আনন্দের দিন। বাংলাদেশ পরমাণু বিদ্যুতের বিশ্বে প্রবেশ করল। ‘মূল কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করলাম।’ রাশিয়ার অর্থায়ণে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে আজ সেই পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র উদ্বোধন হলো।’
প্রধানমন্ত্রী এই বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে অহেতুক সমালোচকদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এটা নিয়ে যারাই প্রশ্ন তোলেন, আমার মনে হয় তাদের ভেতরে একটু আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েছে।
জাতির পিতার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনীর’ উদ্বৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার বক্তব্য অনুযায়ী একশ্রেণির ‘পরশ্রীকাতর’ লোক দেশে আছেন। তারা সবকিছুতেই একটা নেগেটিভ কিছু খুঁজে বেড়াণ। তিনি বলেন, দেশের এই শ্রেণির লোকেরা লেখাপড়ায় খুব উচ্চমানের এবং তারা সরকারি-বেসরকারি খাতে টেলিভিশনকে উন্মুক্ত করে দেয়ার সুযোগে তারা বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে ‘টকশো’ করে বেড়ান। প্রতিনিয়তই কতগুলো প্রশ্ন তারা উত্থাপন করেন। তারা গভীরভাবে দেখেন না যে প্রকৃতপক্ষে আমরা (সরকার) কী কী করে যাচ্ছি। তাদের এসব প্রশ্ন যে অবান্তর সেটাও কিন্তু তাদের ভেবে দেখা উচিৎ।
শেখ হাসিনা বলেন, এটার নিরাপত্তার জন্য ইতোমধ্যে আমাদের সেনাবাহিনী কার্যকর ভ‚মিকা রাখছে। আমাদের পুলিশবাহিনী, আনসার-ভিডিপিসহ আমাদের আইনশৃঙ্খলা সংস্থাকে আমরা সম্পৃক্ত করেছি এবং তাদেরকেও আমরা বিশেষ প্রশিক্ষণ দেবো। বিশেষ করে এই পরমাণু বিদ্যুতকেন্দ্রের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য ‘নিরাপত্তা বলয়’ ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা যেমন থাকবে তেমনি ধাপে ধাপে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হবে। নিরাপত্তায় নিযুক্ত সকলেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হবেন এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও আমরা করব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি শুধু এটুকু বলতে পারি যে, একটা কাজ যখন আমরা করতে চাই, সেই কাজের ভালো-মন্দ, কী হতে পারে, না হতে পারে সেই বিষয়গুলো চিন্তাভাবনা করেই আমরা করি। কাজেই যারা দুশ্চিন্তায় ভুগছেন এবং ‘টকশো’তে কথা বলে তাদের শক্তি-সামর্থ ক্ষয় করছেন, তারা সেটা না করে বরং তা সংরক্ষণ করে দেশের ভালো কাজের কোনো পরামর্শ থাকলে দেন এবং দেশটা যেন সামনে এগোতে পারে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কংক্রিট ঢালাই কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২টা ২ মিনিটে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করেন। একই সময়ে নির্মাণ কাজের ব্যবহৃত বেলচা (স্থানীয় ভাষায় কুর্নি) প্রকল্প সংশ্লিষ্ট রাশিয়ার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন স্মারক হিসেবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ড. ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে সুধীসমাবেশে প্রকল্প পরিচিতি তুলে ধরেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. শওকত আকবর। স্বাগত বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন আর্ন্তজাতিক পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কমিশনের মহাপরিচালক দৌহি হান এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. আ ফ ম রুহুল হক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখেচিভ। তিনি বলেন, আধুনিক এবং নিরাপদ বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট হচ্ছে রূপপুরে। এ ধরনের প্রকল্প রাশিয়াতে রয়েছে। বিদ্যুতকেন্দ্রের উদ্বোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তার দেশকে নিউক্লিয়ার যুগে প্রবেশ করিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে। পাশাপাশি আর্ন্তজাতিক মানের এই নিউক্লিয়ার ক্ষেত্র তৈরি হবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. শওকত আকবর বলেন, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন (রসাটমের) নেতৃত্বে ২০১৩ সালে শুরু হয় বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হয়েছে পাঁচ হাজার ৮৭ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ। বৃহ¯পতিবার ৩০ নভেম্বর, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে শুরু হলো এক লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় বা শেষ পর্যায়ের কাজ। প্রকল্প পরিচালক আরো জানান, প্রথম ব্যাচের কংক্রিট ঢালাইয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির জেনারেল কন্ট্রাক্ট ও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচোভসহ অন্যান্য গণমান্য ব্যক্তিবর্গ যোগ দেবেন। এ প্রকল্প নির্মাণে প্রতিদিন রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশি মিলে প্রায় এক হাজারের বেশি দক্ষ মানুষ কাজ করছেন।
প্রসঙ্গত: দেশের প্রথম পারমাণবিক এই বিদ্যুতকেন্দ্র ২০২৪ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের যোগান দেবে। রসাটমের মাধ্যমে রাশিয়ার আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন ও জেএসসি অ্যাটমস্ট্রোস্পোর্টের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তিতে আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান মো: মনিরুল আলম ও অ্যাটমস্ট্রোস্পোর্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির এন সাভুসকিন স্বাক্ষর করেন। রসাটমে নিযুক্ত রাশিয়ার অ্যাটমস্ট্রোস্পোর্টের ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এই প্রকল্প নির্মাণ করবে।
এর আগে ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে দু’দেশের মধ্যে প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন, সাইট ডেভেলপমেন্ট ও পার্সোনাল ট্রেনিংয়ের জন্য ৫০০’ মিলিয়ন ডলারের রাশিয়ার ঋণচুক্তি এবং ২০১১ সালে রসাটমের সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুতকেন্দ্রটি স্থাপনে রাশিয়া সব ধরনের সহায়তা দেবে এবং জ্বালানি সরবরাহ করবে ও ব্যবহৃত জ্বালানি ফেরত নেবে।
২৬২ একর জমির উপর নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের দুই ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা হচ্ছে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে এই পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

Comments

comments






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Facebook

Likebox Slider Pro for WordPress