Main Menu

তাফসির জেনে নিলেন স্বয়ং রাসুল থেকে

 

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগ ছিল সোনালি যুগ। আমলের আলোয় আলোকিত হবার সেরা সময়। ইলমের সৌরভে সুরভিত হবার সর্বোচ্চ সুযোগ। তখন অহি নিয়ে আসতেন হযরত জিবরাঈল আমিন। আসমানি ইলম নিয়ে। মহিমান্বিত কুরআন নিয়ে। নতুন নতুন বিষয় নিয়ে। সাহাবারা যখনিই যে সমস্যার মুখোমুখি হতেন আল্লাহর রাসুল থেকে জেনে নিতেন। জানার এ বিষয় থেকে সাহবিয়্যা মহিলারাও পিছিয়ে ছিলেন না। তারাও রাসুল থেকে তা জেনে নিতেন। আজকের আলোচনা সাহাবিয়্যা মহিলারা যে কুরআন বুঝতেন, কুরআনের সাথে তাদের গভীর অন্তরঙ্গতা ছিল তা আলোকপাত করব। কুরআনের কোনো আয়াত বুঝে না এলে তারাও রাসুল থেকে তা জেনে নিতেন। আজকে কোরআনও হাদিসের আলোকে এমন বিষয়গুলো আলোচন হবে।

 

১. হযরত হাফছা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, ‘আমি আশা করি, বদরের যুদ্ধে ও হুদাইবিয়ার সন্ধিতে যারা উপস্থিত ছিল ইনশাআল্লাহ তাদের কেউ জাহান্নামে যাবে না।’ আমি আরজ করলাম, ‘আল্লাহ তাআলা তো বলেছেন,

وان منكم الا واردها

উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমি আল্লাহকে এ কথাও বলতে শুনেছি যে,

ثم ننجى الذين اتقوا ونذر الظالمين فيها جثيا

(মুসনাদে আহমদ ৬/২৮৫)

একটা বিষয় লক্ষ্য করুন :

এই হাদীস থেকে উম্মুল মুমিনীনের কুরআনী ইলম সম্পর্কে অনুমান করা যায়। কারণ একে তো তিনি তৎক্ষণাৎ প্রশ্নটি করেছেন আর প্রশ্নটিও ছিল একটি ‘ইলমী সুয়াল’ বা শাস্ত্রীয় প্রশ্ন। তাঁর প্রশ্নের কারণে দু’টো আয়াতেরই ব্যাখ্যা স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে পাওয়া গেল।

২. বিখ্যাত তাবেয়ী মাসরূক রাহ.-এর এক প্রশ্নের উত্তরে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, আমিই সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহর বাণী

ولقد رآه بالافق المبين

(তিনি তাকে দেখেছেন প্রকাশ্যে দিগন্তে)

ولقد رآه نزلة اخرى

(তিনি তাকে আরো একবার দেখেছেন) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি (যে, তিনি আসলে কাকে দেখেছেন।) উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তিনি তো ছিলেন জিবরীল আ.। তাঁর আসল আকৃতিতে মাত্র দু’বার তাঁকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তিনি আসমান থেকে যমীনে অবতরণ করছিলেন। তাঁর বিশাল দেহ আসমান-যমীনের মাঝের স্থান ঢেকে ফেলেছিল।’ (মুসনাদে আহমদ ৬/২৫৯, হাদীস : ২৫৯১৭)

৩. হযরত আয়েশা রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তাআলার বাণী

وان تبدوا ما فى انفسكم او تخفوه يحاسبكم به الله

তোমরা তোমাদের অন্তরের বিষয়াদি প্রকাশ কর অথবা গোপন কর আল্লাহ সেসব সম্পর্কে তোমাদের হিসাব নিবেন।

من يعمل سوء يجز به

(যে ব্যক্তি কোনোরূপ মন্দ কাজ করবে তাকে এর শাস্তি দেওয়া হবে।) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ আমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেনি। এরপর তিনি বলেন, (দ্বিতীয় আয়াত সম্পর্কে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বান্দাকে জ্বর ও রোগ-ব্যধিতে আক্রান্ত করে এবং বিপদাপদ দিয়ে আল্লাহ তাআলা তাম্বীহ করেন। এমনকি কোনো কিছু জামার আস্তীনে রেখে ভুলে যাওয়া এবং এ কারণে পেরেশান হওয়া, এটাও ঐ তাম্বীহের অন্তর্ভুক্ত। (এসব ছোটখাটো শাস্তির) ফলে বান্দা গুনাহ থেকে এমনভাবে পবিত্র হয় যেভাবে কামারের হাপর থেকে লাল লোহা জংমুক্ত হয়ে বের হয়ে আসে। (জামে তিরমিযী ২/১২৩)

৪. ইবনে আবী মুলাইকা রাহ. বলেন, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা.-এর বৈশিষ্ট্য ছিল, কোনো কথায় তাঁর প্রশ্ন হলে জিজ্ঞাসা করতেন এবং ভালোভাবে বুঝে নিতেন। তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বললেন যে, ‘কিয়ামতের দিন যার হিসাব নেওয়া হবে তার শাস্তি অবধারিত।’ তখন আয়েশা রা. আরজ করলেন, ‘আল্লাহ তাআলা কি বলেননি-

فسوف يحاسب حسابا يسيرا

‘অচিরেই তার সহজ হিসাব নেওয়া হবে।’ তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘এই হিসাব তো শুধু জানিয়ে দেওয়া। কিন্তু প্রকৃতপক্ষেই যার কাছে হিসাব চাওয়া হবে সে নিশ্চিত ধ্বংস হবে।’ (সহীহ বুখারী ১/২১)

 

ভেবে দেখুন :

আল্লাহ তাআলা যে বান্দার প্রতি প্রসন্ন থাকবেন তার হিসাব হবে অতি সহজ, প্রকৃতপক্ষে তা হিসাব নয়, শুধু জানিয়ে  দেওয়া যে, বান্দা! এই এই কাজ তুমি করেছিলে। একেই কুরআন মজীদে ‘হিসাব’ বলা হয়েছে। আর এজন্যই উম্মুল মুমিনীনের প্রশ্ন হয়েছে এবং তিনি জিজ্ঞাসা করেছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূল বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছেন। এ থেকে যেমন আয়াতের অর্থ বোঝা গেল তেমনি হিসাব-কিতাবের ভয়াবহতাও জানা গেল।

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই আয়াত সম্পর্কে  জিজ্ঞাসা করলাম-

والذين يؤتون ما اتوا وقلوبهم وجلة

এখানে কি ওইসব লোক সম্পর্কে বলা হয়েছে, যারা মদ পান করে এবং চুরি করে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না হে সিদ্দীক কন্যা। তারা ঐসব লোক, যারা রোযা রাখে, নামায পড়ে এবং দান-সদকা করে আর এই ভয়ে ভীত থাকে যে, তাদের আমল (আল্লাহর দরবারে) কবুল হবে কি না? (সুনানে তিরমিযী ২/২৪৭)

কুরআন মজীদে নারীদের কথা

হযরত উম্মে সালামা রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আল্লাহ তাআলাকে (কুরআনে) নারীদের হিজরত সম্পর্কে কিছু বলতে শুনিনি। তখন এই আয়াত নাযিল হয়-

اننى لا اضيع عمل عامل منكم من ذكر او انثى   (জামে তিরমিযী ২/১২৭)

অন্য হাদীসে আছে, হযরত উম্মে উমারা রা. আরজ করলেন, আল্লাহর রাসূল! আমি তো সব কিছু শুধু পুরুষদের জন্যই দেখতে পাচ্ছি, নারীদের সম্পর্কে তো কিছুই বলা হচ্ছে না! তখন এই আয়াত নাযিল হয়-

ان المسلمين والمسلمات …-জামে তিরমিযী ২/১৫২)

 

আলোচনা থেকে কয়েকটি বিষয় স্পষ্টহয়।সে যুগে মহিলা সাহাবীদেরও জ্ঞান অর্জনের প্রতি  ছিল সীমাহীন আগ্রহ। আর কুরআন জানা ও পড়া ছিল তাদের ভীষণ প্রিয়। দীনের কোনো বিষয় জানার ক্ষেত্রে তারা লজ্জা বা সংকোচ বোধ করতেন না।

 

Comments

comments






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Facebook

Likebox Slider Pro for WordPress