Main Menu

গল্প : দৃষ্টিসংযম

সুলাইমান বিন ইয়াসির রহ.। বিশিষ্ট তাবেয়ী। উম্মুল মুমিনিন মাইমুন রা. এর আযাদকৃত দাস। মদিনার সাতজন ফকিহদের একজন। দেখতে শুনতে ছিলেন অনেক সুন্দর। তাকওয়া পরহেযগারীতে তুলনাবিহীন। হবেন না কেন, নবী পরিবারের আলো বাতাস গায়ে মেখেছেন যে!
একবার সফরে বের হলেন। একজন সাথীকে নিয়ে। খাবারের প্রয়োজন দেখা দিল। সাথী খাবার আনতে বাজারে গেলেন। তিনি একজায়গায় বসে অপেক্ষা করছেন। অদূরে এক উঁচু টিলার উপরে এক বেদুইন যুবতী বসা ছিল। তার চোখপড়ল সুলাইমানের উপর। এত সুন্দর পুরুষ তার জীবনে দেখেনি। বিস্ময়ে তার দুই চোখ স্থির হয়ে গেল। বোরকা-নেকাব থাকলেও সে তাকে সামলে রাখতে পারল না। কিসের যেন এক মুহিনী টানে এদিকে রওয়ানা দিল। টিলা থেকে নামতে হোঁচট খেয়েও তার সম্বিত ফিরল না। ঘোর কাটল না।
সামনে এসে দাড়াল। নিকাব উঠিয়ে ফেলল। বেরিয়ে এল পূর্ণচন্দ্রের মতো অনিন্দ্য সুন্দর এক মুখচ্ছবি।
-আমাকে কিছু দিন।
সুলাইমান একবার তাকাতেই দৃষ্টিঅবনত করে ফেললেন। তিনি মনে করেছেন মেয়েটা কিছু চাইতে এসেছে। ক্ষুধার্ত। তিনি উঠে ব্যাগ খোলে সামান্য যে খাবার ছিল সেটা বাড়িয়ে দিলেন।
-আমি এই খাবার দিয়ে কী করব?
-তাহলে কী চাও?
-একজন পুরুষের কাছে একজন নারী কী চাইতে পারে?
সুলাইমানের চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। ভয়ে কেঁপে উঠলেন। বললেন, তোমাকে এখানে খোদ শয়তান পাঠিয়েছে।
সুলাইমান দুহাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেললেন। বসে পড়ে দুহাঁটুর মধ্যে মাথা গুজে ফুঁফিয়ে ফুঁফিয়ে কাঁদতে শুরু করে দিলেন।
মেয়েটা এমন অপ্রত্যাশিত কা-দেখে নেকাব নামিয়ে ফেলল। নিজের তাঁবুতে ফিরে গেল। কিছুক্ষন পর সাথী ফিরল। বাজার সদাই করে। খাবার দাবার নিয়ে। দেখল, সুলাইমানের চোখে কান্নার ছাপ।
-তুমি কেঁদেছ? কিন্তু কেন?
-না, তেমন কিছু নয়।
-বড় কিছু না হয়ে যায় না। আমি তোমাকে সে ছোটবেলা থেকে জানি। বড়সড় কিছু না হলে তুমি কাঁদার পাত্র নও। সঙ্গীর পীড়াপীড়িতে সুলাইমান ঘটনা খুলে বলতে বাধ্য হলেন। পুরো ঘটনা শুনে সাথী হাতের ব্যাগ থলে সবকিছু রেখে নিজেই কাঁদতে শুরু করে দিল।
-অবাক কা-! তুমি কাঁদছ কেন?
-কাঁদব না। তোমার থেকে আমার বেশি কাঁদার প্রয়োজন।
– কেন?
-আমি আজ তোমার জায়গায় হলে সে মেয়ের প্রস্তাব এড়াতে পারতাম না। নিজেকে সামলে রাখতে পারতাম না। ঠিকই গুনাহে লিপ্ত হয়ে যেতাম।

আবার সফর শুরু হলো। মক্কায় পৌছলেন দুজনে। তাওয়াফ সাঈ শেষ হলো । হাজারে আসওয়াদের কাছে বিশ্রাম করতে বসলেন। একটু তন্দ্রামতো এলো। সে অবস্থাতেই দেখলেন, একজন অতুলনীয় সুন্দর মানুষ সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। অপার্থিব একটা সুবাস তার শরীর থেকে ভেসে আসছে।
-আপনি কে?
-আমি ইউসুফ বিন ইয়াকুব আ.।
-ওহ ! জুলাইখার সাথে যে ঘটনায় আপনি বিস্ময়কর তাকওয়ার পরিচয় দিয়েছেন!
– তোমার আর সে বেদুঈন যুবকটির ঘটনাও কিন্তু কম বিস্ময়কর নয়।

কোঁচড় ভরা মান্না /পৃ. ৭১

Comments

comments






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Facebook

Likebox Slider Pro for WordPress