Main Menu

কোরআনেই সেই প্রশ্নের জবাব পেয়েছিলেন আর্জেন্টাইন দম্পতি

দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ আর্জেনটিনা। এ দেশের ৭৬.৫% লোক ক্যাথলিক ধর্মের। আর্জেন্টিনার একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী হচ্ছে ‘মাপুচি’। এই গোষ্ঠীর এক দম্পতি রেহো ক্যালকুইন ও সোফিয়া গঞ্জালেস। এই দম্পতি তাদের জীবনের বেশিরভাগ সময়ই ‘শামানিজম’ (লোকজ বিশ্বাস) ঐতিহ্যের অনুসরণ করেছেন। একপর্যায়ে তারা খ্রিস্টান মিশনারিদের মাধ্যমে বাইবেলের সঙ্গে পরিচিত হন। বাইবেল পড়ার পর ক্যালকুইন এবং গঞ্জালেস তাদের পথপ্রদর্শক হিসেবে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। কিন্তু এরপর থেকেই তাদের মনে অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়; যেগুলোর জবাব বাইবেলে ছিল না।

একপর্যায়ে তারা তুরস্কের ইস্তাম্বুল সফরে যান। সেখানে তারা কোরআন ও ইসলামের সংস্পর্শে আসেন।এই কোরআনের মধ্যেই তারা তাদের দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষিত অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পান যা তাদেরকে ইসলামের পথে পরিচালিত করে। তুরস্ক সফর থেকে তারা আধ্যাত্মিকতা সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারেন। এই দম্পতি ২০১১ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
‘মাপুচি’ উপজাতির প্রায় ৪,৫০,০০০ সদস্য বিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। তারা খুবই পরিশ্রমী ও শক্তিশালী। তাদের অধিকাংশই একটি ‘সাধারণ’ বিশ্বাসে বিশ্বাসী। ক্যালকুইন তাদের সেই ‘সাধারণ’ বিশ্বাস সম্পর্কে বলেন, আমরা সেন্ট ‘সেসটেরসের’ শিক্ষা অনুসরণ করি; যার ভিত্তি হচ্ছে প্রকৃতি, মানুষ ও প্রত্যেক প্রাণী বিশেষ করে ঈশ্বরের প্রতি সম্মান। আমাদের পূর্বের বিশ্বাসে বলা হয়েছে কেবল একজন ঈশ্বর আছে। সেখানে এমন কোনো শব্দ, পেইন্টিং বা ভাস্কর্য নেই; যা ঈশ্বরকে বর্ণনা করতে পারে। ঈশ্বর হচ্ছেন সব কিছুর মালিক; যা তিনি সৃষ্টি করেছেন। আমি যে সমাজে বাস করি সেখানে আমি তার একটি অংশ। ইসলামের অনেক আগে থেকেই এই বিশ্বাস বিশ্বজুড়ে অনুসরণ করা হয়েছে।’

ঠিক তেমনিভাবে ‘ইসলাম পারস্পরিক বিনিময় নীতির উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ইসলামে অচেনা কোনো কিছু ছিল না। আমাদের পূর্ববর্তী বিশ্বাস ও ইসলামের মধ্যে অনুরূপ মিল আমাদের মুসলমান হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’

ক্যালকুইন তার ৭ বছর বয়সী মেয়ে সম্পর্কে বলেন, ‘সে ইসলামকে অনুসরণ করেই বেড়ে ওঠছে।’তিনি আরো বলেন, ‘ইসলাম মানুষকে তাদের পছন্দের মর্যাদা দেয়। ইসলামের পথ হচ্ছে স্বাধীনতার পথ।’
তাদের মাপুচি জনগোষ্ঠীর মানুষেরা সমান সুযোগ ফিরে পেতে শত শত বছর ধরে লড়াই করে আসছে। ‘তারা তাদের মূল্যবোধ রক্ষার জন্য লড়াই করছে; এই মূল্যবোধের সঙ্গে ইসলামি মূল্যবোধের অনেক মিল রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, সকল প্রাচীন সংস্কৃতি ইসলামের একটি অংশ। ইসলাম একটি বড় এবং মর্যাদাপূর্ণ ধর্ম; যাতে সব কিছুর উপস্থিত রয়েছে।’

সত্যের অন্বেষণ ক্যালকুইনকে ইসলামের পথে পরিচালিত করেছে। ইসলামের ভ্রাতৃত্ব, বন্ধুত্ব এবং সংহতি তাকে মুগ্ধ করেছে। তার পূর্বের বিশ্বাসসমূহে এসব কিছুর অভাব রয়েছে বলে তিনি জানান। ইসলাম সম্পর্কে ক্যালকুইন অনেক মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তিনি যেখানেই যান মানুষ সেখানেই ইসলামের বিস্ময় সম্পর্কে বলেন।তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস ছিল, আমরা তুরস্ক গিয়ে ইসলাম সম্পর্কে আরো অনেক জানতে পারব। আর আমরা আমাদের সমাজ থেকে ইসলামি সংস্কৃতি সম্পর্কে যা শিখেছি তা তাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারব।’

অনুরূপভাবে সোফিয়া গঞ্জালেস জানান, তার কন্যার জন্য একটি পথ অনুসরণ করা প্রয়োজন। গঞ্জালেস বলেন, ‘আল্লাহ ও ইসলামের নবীর শিক্ষা সম্পর্কে আমার মেয়ের জানা প্রয়োজন। নামাজ আদায়ের জন্য যা যা প্রয়োজন আমি তাকে সেগুলো শেখাচ্ছি।’

আমি এখন হিজাব পরি। এজন্য মানুষ আমাকে প্রশ্ন করে কেন এসব পোশাক পরেন।‘তারা মনে করে আমাকে হিজাব পরতে বাধ্য করা হয়েছে। অতঃপর আমি তাদেরকে এটি পরার কারণ জানাই। পরবর্তী সময়ে তারা আমার পছন্দকে সম্মান জানায় এবং আমাকে গ্রহণ করেন।’গঞ্জালেস বলেন, ‘আমরা একটি মুসলিম দেশ চলে যাবার কথা চিন্তা করছি। আমরা মুসলিম দেশগুলোর সবকিছুই ভালোবাসি। তারা আমাদের দেশ থেকে পুরোই ভিন্ন।’

ইস্তাম্বুলে তাদের সফর সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে গঞ্জালেস বলেন, ‘ইস্তাম্বুল একটি চমৎকার শহর। এটি বিশ্বের কেন্দ্রের মত। ইস্তাম্বুল এমন একটি শহর যা বিশ্বের অনেক সংস্কৃতি, ইতিহাস ও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। আমাদের ধর্মীয় বিয়ের অনুষ্ঠান ইস্তাম্বুলে হয়েছিল। আমরা আবারো এখানে ফিরে আসতে চাই।’

http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/303103

Comments

comments






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Facebook

Likebox Slider Pro for WordPress