Main Menu

এতটা পাষানদীল কীভাবে হয়-আবু লাবিব মোহাম্মদ ইউনুস

মানবিকতা। দয়া। অনুগ্রহ। অপরের বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসা। আমরা যারা সোনার এ বাংলাদেশটায় জন্মেছি, আমাদের এটা পৈত্রিক সম্পত্তির মতো। মুসলমান হিসেবে এটা আমাদের আদর্শ। আমাদের ভূষণ। কিন্তু সময়ের স্রোতে আমাদের পরিচয়টা যেন একটু ভিন্ন আঙ্গিকে রূপ নিচ্ছে। আমাদের পরিচয়টা যেনো আমরা খুইয়ে ফেলছি ফেলছি এমন অবস্থা। অর্থ লিপ্সা, অন্যকে পায়ে মাড়িয়ে রক্ত ঝরিয়ে উপরে উঠার যে সভ্যতা আমরা পশ্চিমাদের মধ্যে দেখছি, এমন সকল নোংরা স্বভাবগুলো আমাদের সমাজে বাড়ছেই বাড়ছে। এক সময় মনে হতো ওরা আমার দেশের নাগরিক নয়। এখন সময়ের ব্যবধানে এদের সংখ্যার নিক্তিটা যখন বেড়েই চলছে তখন বুকটা ভেঙ্গে গেছে। কেমন একটা বিশ্বাসও মনে যায়গা করে নিচ্ছে মনের আসনে, মনে হয় আমরা পশ্চিমা অনুকরণটা মনে হয় খুব ভালোভাবেই করছি।
সংবাদ মাধ্যমে আরাকানের রুহিঙ্গা মুসলমানদের বার্মা বৌদ্ধ কর্তৃক নির্যাতনের হত্যার পাশবিকতা দেখে কাঁদেনি এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। বিশেষ করে আমার দেশের মানুষ। তারা আন্দোলন করছে। তাদের সহযোগিতার জন্য নিজ যায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে দৈনিক ইলকিলাবের একটি সংবাদ দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না। নিজের জাতির উপর কেমন একটা আফসোস হলো। নিজেকে অনেক ছোট মনে হলো। মানুষ এতটা নীচে কীভাবে নামে। এতটা নিষ্ঠুর পাষানদীল কীভাবে হয় ! আমাদের প্রশাসনকে ধন্যবাদ। তারা এমন পশুগুলোকে বিচারের আওতায় আনতে পেরেছে। খবরটি হলো

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানে জীবন নিয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের জন্য নির্যাতনের দায়ে ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের একটি ভ্রাম্যমান আদালত বুধবার রাতে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানার সীমান্তবর্তি শাপলাপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে।
র‌্যাবের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান বলেন, শাপলাপুর এলাকায় কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিকারী মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরনার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে অবরুদ্ধ করে রেখে তাদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে। এমন খবর পেয়ে মেজর মোঃ রুহুল আমিনের নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রনয় চাকমা সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। 
এসময় শাপলাপুরের মোহাম্মদ উল্লাহর পুত্র জুবায়ের হেলালকে (৩৭) ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড, মহেশখালীয়াপাড়ার ফজল আহাম্মদের পুত্র আবুল কাশেমকে (২৮) ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড, বড় ডেইল গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র জালাল উদ্দিন (২৭), লেংগুবিল গ্রামের মকবুল আহাম্মদের পুত্র মোস্তাক মিয়া (৪০), শাপলাপুর গ্রামের সুলতান আহমদের পুত্র কালা মিয়া (৪৫) এবং একই গ্রামের মোজাহের মিয়ার পুত্র ছৈয়দ আলমসহ প্রত্যেককে ২ মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়। উল্লেখ নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের উপর সীমান্তে দালাল চক্র নানা ধরনের নির্যাতন চালিয়ে আসছে।

এ আরাকানিরা, যাদের আমরা রুহিঙ্গা বলে ডাকি, এক সময় আমাদের বিপদের সময় সাড়া দিয়েছিল। সহযোগিতা করেছিল। আজকে আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রের অবস্থান দেখে মনে প্রশ্নজাগে আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসটা বোধহয় আমরা ভুল ভাবে জেনেছি। কিংবা এততো মতবিরোধসম্পন্ন ইতিহাস থেকে সত্যটা নিরেটটা বের করতে আমরা ভুল করেছি।
তবে এতটুকু খুব বিশ^াসের সাথে বলতে পারি, কারো সহযোগিতা করলে কেউ ঠকেনা। এটা ব্যক্তি হোক। কিংবা রাষ্ট্র হোক। মানবতার এঙ্গেল থেকে আমরা আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছে একটা অনুরোধ করতে চাই, কিছু শর্ত জুড়ে দিয়ে হলেও আমাদের উচিত তাদের আশ্রয় দেওয়া। তাদের আপন বিটা-মাটিতে ফিরে যাবার জন্য আমরা যেহেতু সার্কভুক্ত দেশ, জাতিসংঘের অধীন, একটা বড় ধরনের চেষ্টা চালাতে পারি।

Comments

comments






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Facebook

Likebox Slider Pro for WordPress