Main Menu

স্বীকৃতি পাচ্ছে ফিলিস্তিন!

প্রিন্স উইলিয়াম ফিলিস্তিনী অঞ্চলকে ‘দেশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। রামাল্লায় মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি আব্বাসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমাকে এখানে স্বাগত জানানোর জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি অত্যন্ত আনন্দিত এই ভেবে যে, আমরা দুটি দেশ একত্রে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি এবং অতীতে শিক্ষায় ও ত্রাণের কাজে আমাদের দু দেশের মধ্যে সফলতার গল্প রচিত হয়েছে।’

পশ্চিমা দেশগুলো সাধারণত ফিলিস্তিনীকে একটি দেশ বা রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ না করে বরং ভবিষ্যতে- তথা কথিত দুই রাষ্ট্র সমাধানে কেবল ফিলিস্তিনের সার্বভৌমত্বের পক্ষে নিজেদের সমর্থন দেয়। জাতিসঙ্ঘে ফিলিস্তিনের পর্যবেক্ষক মর্যাদা থাকলেও এটি সেখানে সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃত নয়।

প্রিন্স উইলিয়াম প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনী অঞ্চলে শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি ফিলিস্তিনীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের ভুলে যাইনি।’ সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অধিকৃত জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার পর এই স্পর্শকাতর সময়ে ব্রিটিশ রাজপরিবারের এই সিনিয়র সদস্যের আগমন ঘটল এ অঞ্চলে।

ইসরাইলের উপকূলীয় শহর তেল আবিব থেকে অভ্যর্থনা দিয়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনী প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের হিলটপ অফিসে নিয়ে আসা হয় প্রিন্সকে। ফিলিস্তিনীরা আব্বাসের হেড কোয়ার্টার্সে ব্রিটিশ সিংহাসনের দ্বিতীয় উত্তরাধিকারী উইলিয়ামকে লাল গালিচা সংবর্ধনাসহ গার্ড অব অনার দিয়ে সম্মান জানায়।

এ দিকে মঙ্গলবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাত করেন উইলিয়াম। সে সময় নেতানিয়াহু ইসরাইলের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনীদের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টি প্রত্যাখান করেন এবং সেখানে ইহুদী বসতির পক্ষে তার সমর্থন পুনরায় ব্যক্ত করেন। এই পশ্চিম তীরেই আব্বাস কর্তৃপক্ষের ঘাঁটি রয়েছে।

তবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র অফিসের তরফ থেকে প্রিন্সের বক্তব্যের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বলা হয়, ‘ব্রিটিশ সরকার সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও টেকসই ফিলিস্তিনী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকে সমর্থন করে, যেখানে শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে তারা ইসরাইলের পাশাপাশি বসবাস করতে পারবে।’ এতে আরও বলা হয়, ‘যুক্তরাজ্য এক সময় ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে।’

পরে রামাল্লায় শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে যান প্রিন্স এবং ফিলিস্তিনের একটি ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক নৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নেন। এ সময় ফিলিস্তিনের সশস্ত্র নিরাপত্তা সদস্যদের বেশ কিছু ভবনের ওপরে ও নিচে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। শরণার্থী এ শিবিরটিতে ৯ হাজারেরও বেশি মানুষ গাদা-গাদি করে বাস করছে।

ফিলিস্তিনী শিশুদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় অংশ নেয়ার আগে প্রিন্স কফি ও সেখানকার ঐতিহ্যবহী খাবার খান। জিন্স প্যান্টের সঙ্গে নীল শার্ট ও উজ্জ্বল রঙ্গের জ্যাকেট পরিহিত প্রিন্স এ সময় ৪ বার গোল পোস্টে বল কিক করেন। তবে শিশু গোলকিপার ৩ বার বল ঠেকাতে সক্ষম হলেও চতুর্থবার পারেনি।

রামাল্লার মেয়র মুসা হাদেল জানান, তিনি প্রিন্সকে ফিলিস্তিনীদের ইতিহাস জানাতে সহায়তা করতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বার্তা ছিল- ফিলিস্তিনীদের বেঁচে থাকার জন্য আমাদের দেশে শান্তি দরকার।’ ফিলিস্তিনীদের উদ্দেশে প্রিন্স বলেন, ‘আপনাদের মতো আমিও চাই, এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক।’

জর্ডান-ইসরাইল-ফিলিস্তিন সফরে প্রিন্স উইলিয়াম, আসল উদ্দেশ্য কী?
আনাদোলু এজেন্সি

যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের কোনো সদস্য হিসেবে বুধবার প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন সফরে গেলেন প্রিন্স উইলিয়াম। জর্ডান ও ইসরাইল সফর শেষে ফিলিস্তিনে পৌঁছান তিনি। সফরে দেশটির নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ফিলিস্তিন-ইসরাইল শান্তিচুক্তির তাগিদ দেন তিনি।

বুধবার পশ্চিম তীরের রামাল্লায় ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রিন্স উইলিয়াম। এ সময় ইসরাইলের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ব্যাপারে নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন মাহমুদ আব্বাস।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি ১৯৬৭ সালে দখলকৃত ভূমির ওপর একটি প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ খুঁজছি; যেখানে ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলিরা নিরাপত্তা নিয়ে থাকতে পারে। দীর্ঘ সময়ে আমাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা আলোচনার মাধ্যমে শান্তি চাই।

ব্রিটিশ প্রিন্সের সফরের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিন ও যুক্তরাজ্যের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মাহমুদ আব্বাস। প্রিন্স উইলিয়ামকে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের প্রত্যাশা থাকবে এটাই আপনার শেষ সফর নয়। আশা করছি, আপনি আবারো এখানে সফরে আসবেন যখন ফিলিস্তিনের জনগণ স্বাধীনতা লাভ করবে।

ফিলিস্তিন সফরে এসে  এবং দেশটির সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পেরে নিজের কাছে ভালো লাগছে বলে মন্তব্য করেন প্রিন্স উইলিয়াম। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মতো বিষয়গুলোতে দুই দেশের সাফল্যের গল্প রয়েছে। আশা করি এই সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।

সফরে পশ্চিম তীরে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং একটি ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করেন প্রিন্স উইলিয়াম। এছাড়া রামাল্লার উত্তরে একটি শরণার্থী শিবিরও পরিদর্শনের কথা রয়েছে তার।

পাঁচদিনের মধ্যপ্রাচ্য সফরের অংশ হিসেবে ইসরাইলে যান ব্রিটিশ প্রিন্স উইলিয়াম। সফরের অংশ হিসেবে বুধবার তেল আবিবে ইউরোভিশন জয়ী তারকা নেত্তা বারজিলাই এর সাথে সাক্ষাৎ করেন তিনি। তেল আবিব থেকে আনুষ্ঠানিক সফর শেষ করে ফিলিস্তিন এসেছেন। এর আগে ঐতিহাসিক মধ্যপ্রাচ্য সফরের অংশ হিসেবে সোমবার ইসরাইল পৌঁছান ডিউক অব ক্যামব্রিজ। সেখানে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন প্রিন্স উইলিয়াম। ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে ইসরাইলে আনুষ্ঠানিক সফর করেন তিনি। ইসরাইলে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত বলেছেন, প্রিন্স উইলিয়ামের ইসরাইল সফরের মধ্যে দিয়ে দেশদুটির সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

ইসরাইল সফরের আগে ২৪ জুন জর্ডান সফর করেন উইলিয়াম। রোববার দেশটির রাজধানী আম্মানে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান জর্ডানের যুবরাজ আল হুসেইন বিন আব্দুল্লাহ। জর্ডানে আশ্রয় নেয়া সিরীয় ও ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন প্রিন্স উইলিয়াম। জর্ডান তরুণদের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। আম্মানে রানী এলিজাবেথের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত উৎসবে বক্তব্য রাখেন প্রিন্স উইলিয়াম। আগামীতে জর্ডান এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রিন্স উইলিয়ামের এ সফর উপলক্ষে দেয়া এক বার্তায় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক সফর। ইসরাইলে তাকে প্রবল আগ্রহের সঙ্গে স্বাগত জানানো হবে।আর ব্রিটিশ যুবরাজের এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ অভিহিত করে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছিলেন, আমরা আশা করি দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক জোরদার করতে এ সফর অবদান রাখবে।

ব্রিটিশ যুবরাজের এ সফর এমন সময়ে হতে যাচ্ছে যখন সীমান্তে প্রকাশ্যে শতাধিক ফিলিস্তিনিকে গুলি করার ঘটনায় বিশ্বে ব্যাপক সমালোচিত হচ্ছে ইসরাইল। এর আগে বেসরকারি সফরে ১৯৯৮ এবং ২০০৭ সালে ইসরাইল এসেছিলেন কুইন এলিজাবেথের চাচাতো ভাই ডিউক অব কেন্ট এবং ডিউক অব গ্লসিস্টার। এছাড়া ২০১৬ সালে ইসরাইলে সাবেক প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে ইসরাইলে এসেছিলেন প্রিন্স উইলিয়ামের বাবা প্রিন্স চার্লস।

Comments

comments






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Facebook

Likebox Slider Pro for WordPress