Homeঅলি-আউলিয়াগনের গল্প

সাত মাসেও রান্না করা খাবারের স্বাদ দেখা হয় নি

সাত মাসেও রান্না করা খাবারের স্বাদ দেখা হয় নি
Like Tweet Pin it Share Share Email

 

আবদুর রহমান ইবনে আবী হাতেম রাযী রাহ.। তাঁর ইন্তেকাল হয়েছে ৩২৭ হিজরিতে। বাবা আবু হাতেম রাযী রাহ.। তাঁর মৃত্যু ২৭৭ হিজরি।তাঁর মতো তিনিও ছিলেন হাদীস ‘ইলাল’ আর ‘জারহ-তা’দীলে’র ইমাম। হাদীসের রাবীদের ‘জারহ-তা’দীলে’র উপর নয় খন্ডের সুবিশাল ‘আলজারহু ওয়াত তা’দীল’, দুই খন্ডের ‘ইলালুল হাদীস’ আর দশেরও বেশি খন্ডের কুরআনের তাফসীর তাঁর অমর রচনা।

এত বড় হওয়ার পেছনে ছিল তাঁর তালিবে ইলম-যিন্দেগীর অপরিসীম মেহনত-মুজাহাদা। চলুন, তাঁর মুখেই শোনা যাক তাঁর জীবনের একটি কাহিনী।

তিনি বলেন, আমরা মিসরে ইলম অর্জনরত ছিলাম। একে একে সাতটি মাস চলে গেল। এক বেলাও রান্না করা কোনো খাবারের স্বাদ আমরা নিতে পারিনি। কারণ খাবার রান্না করার সময় আমাদের হত না। পুরোটা দিন ভাগ করা ছিল উস্তাদদের দরসের জন্য। আর সারা রাত কেটে যেত লেখা, নুসখা তৈরি ও নুসখার মুকারানা করার মাঝে।

একদিনের ঘটনা। আমি ও আমার এক বন্ধু এক শায়খের দরসে গেলাম। তিনি অসুস্থ ছিলেন।

তাই অবসর সময় পেয়ে ফিরে আসছি। বাজারে একটি মাছ দেখে আমাদের খুব পছন্দ হল। মাছটি কিনে আমরা বাড়িতে ফিরে এলাম। এদিকে অন্য উস্তাদের দরসের সময় হয়ে গেল। মাছটি ঐভাবে রেখে আমরা দরসে চলে গেলাম।

এরপর তিন তিনটি দিন কেটে গেল। মাছটি রান্না করা হল না। ফলে তা বাসী হয়ে পঁচে যাওয়ার উপক্রম হল। বহুদিন পর যাওবা একটি মাছ কেনা হল সময়ের অভাবে তা-ও রান্না করা গেল না।

এই স্মৃতিকথা বর্ণনা করে তিনি (ইয়াহইয়া ইবনে আবী কাসীর রাহ.-এর ঐতিহাসিক কথাটি) বললেন, শরীরের রাহাতের (আরামের) সাথে ইলম পাওয়া যায় না।’

[সূত্র : তাযকিরাতুল হুফফায ৩/৮৩০; সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৩/২৬৬]

অনুবাদ : ইবনে দানিশ

Comments (0)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *