Main Menu

সমান অধিকারের পর যা ঘটল

islamic golpo

নাহিদ ও নাছিমা দু’জন বান্ধবী এবং ছোট কাল থেকেই পড়ার সাথী । তারা এখন এস.এস.সি. পরীক্ষার্থীনী । কিছুদিন পরেই তারা কলেজের ছাত্রী হবে। তারা দু’জন বান্ধবী হলেও ধ্যান-ধারণা দু’জনের দু’রকম ।

নাহিদা ধার্মিক পরিবারের মেয়ে । তার চলাফেরা  ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে গড়া । আল্লাহ তায়ালার হুকুম ,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তরীকায় চলতে সে চেষ্টা করে , যদিও সে স্কুলে পড়ে । স্কুলে আসা যাওয়া করে শরীর আবৃত্ত করে । সে বোরকা পড়তে ভালোবাসে । তাই সে বালেগা হওয়ার পর থেকে কোথাও বের হলে বোরকা পরে বের হয় । তার বাবা হলেন দ্বীনদার নামাযী, প্রাইমারী স্কুল মাস্টার । মা গৃহিনী এবং আমলী,নামাযী।

নাছিমা আধুনিক পরিবারের সন্তান । প্রগতিশীল ও সংস্কৃতিমনা হিসেবেই পরিচিত এই পরিবারটি । তার বড় বোন ও তার দুই ভাইসহ সবাই এই ‍শিক্ষায় শিক্ষিত । আর নাছিমা নাসরীন আধুনিক ,   শরীয়তবিরোধী, উচ্ছৃঙ্খল ছিল তার চলাফেরা । এই পরিবারটি কখনো ইসলামী আদর্শ  জানতেও চায় না । নাছিমা নাসরীনের কাছে নাহিদার চলাফেরা ভাল লাগেনি। আর ভাল লাগবেই কীভাবে । নাহিদার বোরকা পরাকে বলে কালো কাপড়ের বস্তা । তাই সে নাহিদাকে নিয়ে তার মত মেয়েদের সাথে মাঝে মাঝে ঠাট্রা-বিদ্রুপ করে থাকে ।

ওর এস.এস.সি. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কলেজে পা রেখেছে। দু’জন এক সময়ে কলেজে হাজির হল । নাসরীন প্রশ্ন ছুড়ল , কিরে নাহিদা আজও তুই কলেজে আসছিস বোরকা নামের কালো কাপড়ের বস্তা হয়ে। কলেজ হল একটি আধুনিক সহশিক্ষালয় । যার সবকিছুই আধুনিক । তোর রুচি এই পরিবেশে মানায় না , দেখ আধুনিক সাজে সজ্জিত হয়ে এসেছি । আর তুই এলি মৌলবাদী ভূত সেজে । প্লিজ ! নাহিদা তুই এগুলো ছাড় । আমি আশা করব আগামীকাল থেকে তুই মডার্ন  সেজে আসবি । তুই এভাবে কলেজে আসলে আমার অন্য বন্ধুরা কি বলবে ? আমারও তোর প্রতি লজ্জা হয় ।

নাহিদা: আমি তোর সকল বক্তব্য নীরব শ্রোতা হয়ে শুনেছি । কিন্তু তোর উপদেশ মানা আমার পক্ষে সম্ভব নয় । তুই যেমন তোর অন্য বন্ধুরাও যদি এমন হয়, তাহলে আমাকে অবশ্যই ঘৃনার চোখে দেখবে । আমি যেই চিন্তাধারার মেয়ে ঐ চিন্তাধারার হলে আমাকে অবশ্যই ভালবাসবে । আর আল্লাহ তায়ালার আদেশ পর্দা করা, তাই পর্দা করতে হবেই । আমি তোর মত আধুনিক নামের উচ্ছৃঙ্খল হতে পারব না । এখানে তোর সাথে আমি বেশি কথা বলতে পারব না । পর্দা কি ও কেন ? এবং কেন আমি পর্দা করি, বিস্তারিত সব বলব । আমাদের বাসায় একদিন সময় করে যাস । আমাকে আর কলেজে এসব কথাবার্তা বলে বিরক্ত করবি না

নাছিমা নাসরীন এই কলেজে কিছুদিন থাকার পরই তার বড় ভাই- বোনদের মত সেও লেখাপড়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে চলে যায়। যে যেই প্রকৃতির তাকে ঐ পরিবেশেই মানায় । নাসরীনের জন্যও ঐ পাশ্চাত্য দেশ ছিল আনন্দময় । কারণ সে এমন স্থান পেয়েছে , যা ছিল তার মনের চাওয়া। যেখানে পর্দার কোন প্রশ্নই নেই । সেখানে আছে শুধু উলঙ্গ ও বেহায়াপনা । ফ্রী সেক্স যৌন স্বাধীনতা । অমুসলিম নারী- পুরুষ ,কুকুর-শেয়ালের মতো অবাধে যৌন নোংরামীতে ‍লিপ্ত । এই সব পশ্চাত্যদেশে আরো আছে ‘যৌন সঙ্গী বিনিময় ক্লাব’ । ছেলে-মেয়েরা কিশোর বয়স থেকেই পেয়ে যায় যৌন স্বাধীনতা ।

অথচ ঐ পাশ্চাত্য দেশগুলো যতোই উলঙ্গ ও নির্লজ্জ হতে পরে, ততোই তারা তাদেরকে সভ্য মনে করে । তাদের এ নোংরামী তাদের মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না । তারা চায় তা সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে । এ নাফরমান খৃষ্টান ও ইয়াহুদীদের বিশেষ টার্গেট হচ্ছে ইসলাম বা মুসলমানদের  উপর তারা সারাবিশ্বে যৌন স্বাধীনতা ছড়াবে । এখন  তারা সভ্যতার নামে আস্ফালন দিচ্ছে । আর তাদের এই আস্ফালনে বাহবা দেয়ার লোকও আজ চতুর্দিকে কম নয় । পাশ্চাত্য দেশগুলোতে যারা অন্য দেশ থেকে লেখাপড়া করতে যায়, তাদের মগজ এমনভাবে ধোলাই করে ফলে পাশ্চাত্যের পশুত্বকে সভ্যতার স্বীকৃতি দানের অনুপ্রেরণা সব সময় তাদের মাথায় থাকে । এমন একটি স্থানেই নাছিমা নাসরীনের সময় কাটছে ।

এদিকে নাহিদা ইসলামী আদর্শ মতে চলতে , মানতে ও জানতে দিন দিন তার মনে আনন্দ প্রেরণা বেড়েই চলছে । আর তার কলেজের ছেলে-মেয়েদের অবাধে চলাফেরা , একসাথে বসে আড্ডা মারা, ফ্রেন্ডশিপ করা , অবৈধ প্রেম ভালবাসা করা ও একজন আরেকজনের হাতে ধরে যেদিকে মন চায় সেদিকে চলে যাওয়া দেখে তার দিন দিন এই সহশিক্ষার প্রতি ঘৃনার জন্ম হচ্ছে । আর মনে মনে বলছে- হে প্রিয় ছাত্র-ছাত্রী বন্ধুরা ! তোমরা কী করছ ? এই বুঝি লেখাপড়া । তোমরা আখেরাতকে কি ভুলে গেছ ? এই বুঝি আমাদের আদর্শ শিক্ষার বিদ্যালয় । তাই সে চিন্তা করছে- এখানে থেকেতো আমার ঈমান আমল ঠিক রাখতে পারব না । এখন আমি কী করতে পারি, অবশ্যই আমার এখান থেকে সরতে হবে । একদিন তার বাবার কাছে সব খু্লে বলল তার মনের বেদনা, কষ্ট ও আকাঙ্ক্ষা । তার বাবাও বুঝতে পারে মেয়ের মনের দুঃখ ও চাওয়া । তখন তার বাবা চিন্তা করে মসজিদের খতিব সাহেবের কাছে মেয়ের সব কিছু খুলে বলে পরামর্শ চাইলেন । খতিব সাহেব সুন্দর একটি পরামর্শ দিলেন ।

তার বাবা খতিব সাহেবের পরামর্শ অনুযায়ী নাহিদকে একটি কওমী মহিলা মাদরাসায় ভর্তি করে দিলেন । আর নাহিদার জন্যও হল এটা লেখাপড়ার জন্য উত্তম স্থান । এটাই ছিল তার মনের চাওয়া । সে লেখাপড়ায় গভীর মনোযোগের সাথে দিন কাটাতে শুরু করে মাত্র সাত বছরে দাওরায়ে হাদীস পাশ করে আলেমা হয় । জীবন গড়ে তুলে ফুলের মত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর আদর্শ মত । তার বাবা নাহিদাকে এক মাদরাসার

শিক্ষকের সাথে বিয়ে দিয়ে দেয় । নাহিদা আলেম স্বামী পেয়ে আল্লাহর শুকরিয়া  জানায় । যেমন পাত্র ,তেমন পাত্রী, নব দম্পতির জীবন  চলতে থাকে নবরূপে ।

এর কয়েক বছর পর নাছিমা নাসরীন যুক্তরাষ্ট্রের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে বার বছর পড়াশোনা করে দেশে ফিরেছে । দেশে এসে পাশ্চাত্য দেশের কুশিক্ষা সবাইকে দেয়ার জন্য কৌশল অবলম্বন শুরু করল । ঐ পাশ্চাত্য দেশের মত এই দেশকেও যেন করা যায় ।  ঐ পশুদের দেয়া সার্টিফিকেট নিয়ে নেমে গেল বাংলার মাঠে । ঐ পশুদের মত যৌন স্বাধীনতা দিয়ে নারীদেরকে ঘর থেকে বের করে পরুষ-মহিলা কিভাবে একাকার করা যায় । পাশ্চাত্যর দালাল হিসাবে কাজ করতে লাগল সে ।

কাজ করার জন্য সে এখন পথ বেছে নিল নারী স্বাধীনতা ও মানবাধিকার আন্দোলন । কীভাবে নারীদেরকে ঘর থেকে বের করে পথে ঘাটে নামানো যায় । রাজপথে তুমুল আন্দোলন শুরু করল । তার এই কর্মকান্ড সম্পর্কে পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে । ‍কিছু লোক বা পত্রিকা তার এই কর্মকান্ড ঘৃণার চোখে দেখছে ও লিখছে । আর বামপন্হী পত্রিকাগুলো তার সু-নামই লিখছে ।

নাসরীনের কর্মকান্ড এভাবে চলতে থাকে কয়েক বছর । একদিন তার মনে পড়ল স্কুলে পড়ার সাথী নাহিদার কথা । নাহিদা যে কেমন আছে ? না! নাহিদার সাথে আমার দেখা করতেই হবে । নাহিদা কে যদি আমার এ আন্দোলনের সাথী বানানো যায় ,তবে কতই না ভাল হবে । তার সাথে তো অনেক দিন ধরে দেখা নেই । এস.এস.সি. পাশ করে যুক্তরাষ্ট্র চলে গেলাম , আর দেখা হল না । আগামীকালই তাদের বাড়িতে যাব ।

নাহিদা স্বামীর বাড়ি থেকে গতকাল বাবার বাড়িতে এসেছে । দুপুরের খাওয়া-দাওয়া সম্পন্ন হল । এখন সে একটি ইসলামী বই নিয়ে বসেছে । তার স্বামী তার এক বন্ধুর বাসায় বেড়াতে গেছে । সে এখন গভীর মনোযোগের সাথে বই পড়ছে । এমন সময় কলিং বেল বাজতে শুরু করল । কে এল এখন ? গেইট খুলে দেখল, আরে নাসরীন না? তুই কেমন আছিস ? হ্যাঁ ভাল । তুই কেমন আছিস ? ভাল।

তারা দু’জন একসাথে এক রুমে বসল । নাসরীন বলল- আমিতো একটানা বার বছর যুক্তরাষ্ট্রে কাটিয়ে আসলাম । তোর সাথে দেখা নেই । আবার দেশে এসেই দেশের নারীদের জন্য নারী স্বাধীনতা আন্দোলনের কাজে নেমে গেলাম। কারণ আমাদের দেশের নারীরা আজ চরম সংকটে আছে । স্বামীর আবদ্ধতা , ধর্মের পর্দার বাধ্যকতা । তাই এগুলো ঢিঙ্গিয়ে আমাদের দেশের নারীদের আজ স্বাধীন হতে হবে । পুরুষরা অফিস , আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু করতে পারে , নারীরা পারবে না কেন ? সমাজে নারীরা নেতৃত্ব দিতে পারবে না কেন ? তাই আমার এই কাজ নারী স্বাধীনতা, সমান অধিকার আদায়ের আন্দোলন । তাই আমার শ্লোগান হল-‘শরীর আমার সিদ্ধান্ত আমার’, ‘যার ধর্ম তার কাছে রাষ্ট্রের কী বলার আছে’ এসব হল আমার শ্লোগান । আমার মত স্বাধীনতা কামী সব নারীদের শ্লোগান । এখন আমি তোকে বলছি-আমি আশা করি তুই আমার এ কাজে সাড়া দিবি । মৌলবাদীদের কথা শুনে পর্দা নামের বন্দীশালায় পড়ে থাকিস না । তোর নিজের জীবন- যৌবনের আনন্দ সব ধুলির সাথে মিশিয়ে দিস না । আগামী মাসে আমাদের নারীদের একটি মিছিল সমাবেশ আছে । আশা করি তুই আমাদের সাথে যাবি।

নাহিদা বলল, তোর কথা শেষে হয়েছে ? আমি এখন বলি তুই শোন । তোর কথা শুনে আমার সারা শরীরের রক্ত শিউরে উঠেছে। আর আমার কথা শুনবি কিনা কে জানে । কারণ তুই এমন এক জায়গায় এমন বিদ্যা শিখে এসেছিস, যেখানে আছে যৌন স্বাধীনতা , অবৈধ নোংরামী অবাধে মেলামেশা। এমনকি পশুর সাথে যৌন কর্ম  করতে তারা দ্বিধাবোধ করে না । তবুও তারা নিজেদেরকে সভ্যতার প্রতীক বলে শ্লোগান দেয় । তবু আমি তোর হেদায়েতের জন্য বলছি ।

তুই বলছিস নারীদের সমান অধিকার । সমান অধিকার আবার কী ? তুই কী বুঝাতে চাচ্ছিস ? মনোযোগ দিয়ে শোন – আল্লাহ তায়ালা নারীদেরকে পুরুষদের তুলনায় বেশি অধিকার দিয়েছেন । তবে নারী-পুরুষ এক নয় । নারীরা নারীই থাকবে এবং পুরুষরা পুরুষই । আল্লাহ তায়ালা তাদের ক্ষেত্রে মর্যাদা, অধিকার ইত্যাদি সবকিছু আলাদা করে দিয়েছেন । যার যার গন্ডিতে থেকে কর্ম সমাধার হুকুম দিয়েছেন । তাইতো স্রষ্টা কোন নারীকে নবী হিসাবে প্রেরণ করেননি এবং যুগে যুগে নেতৃত্বের ভার পুরুষদের উপর অর্পণ করেছেন । বর্তমানেও রাষ্ট্রনায়ক হতে সর্বক্ষেত্রে পৃথিবীর পুরুষদের আধিপত্য বিদ্যমান ।

বস্তুতঃ নারীদেরকে  নির্বাচিত করা হয়েছে গৃহাভ্যন্তরে গুরুদায়িত্বের জন্য এবং পুরুষদেরকে নির্বাচিত করা হয়েছে বাহিরের ব্যবস্থাপন আনজাম দানের জন্য।

আচ্ছা তুই বল! তোকে সমান অধিকার দিয়ে পুলিশের চাকরি দেয়া হল । রাতে তোকে কোথাও পাঠাল ডাকাত সন্ত্রাস ধরার জন্য । তোরা মহিলা পুলিশ দুইজন , ওরা ডাকাত সন্ত্রাস হলো ২/৩ জন । তখন তোরা কি তাদের সাথে পারবি । না পারলে তোরা তাদেরকে ধরবি না তারা তোদেরকে ধরবে ? তখন তোদের কী অবস্থা হবে ।

অথবা তোকে যদি নারী স্বাধীনতা দেয়া হয় । পুরুষদের মত তিন/চার স্বামী গ্রহণ করা বা অধিক পুরুষের সাথে অবাধে মেলামেশার সুযোগ দেয়া হয় । তাহলে ঐ সন্তানের পিতা হিসাবে কাকে পরিচয় দিবি ?

নারীকে আল্লাহ- তায়ালা মায়ের মর্যাদা, এমনকি পিতার চেয়ে তিনগুন বেশি মর্যাদা দেয়া হয়েছে । তা শুধু মর্যাদার ক্ষেত্রেই নয়, তাতে তাদের সম্মান ও পরকালীন মুক্তি সহজতর হওয়ার প্রতিও ইঙ্গিত রয়েছে ।

আর নারীদেরকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলে আখ্যায়িত করা হয়ছে । নারী যেহেতু মূল্যবান সম্পদ , তাই তাদেরকে হেফাজত করার জন্য তাদের প্রতি পর্দার হুকুম করা হয়েছে । আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-‘‘আপনি পুরুষদেরকে বলে দেন তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং লজ্জাস্থাদনর হেফাজত করে । আর মুমিন নারীদেরকে বলে দিন তারা যেন ওদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং সতীত্বের হেফাজত করে’’। (সূরাহ নূর)

উল্লেখিত আয়াতে আল্লাহ তায়ালা নারী-পুরুষ উভয়ের

জন্য পর্দার গন্ডি ও গুপ্তাঙ্গ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন । আর তুই চাস সব বিলীন করতে । এ পাপের কী ভয়াবহ শাস্তি তুই কি জানিস ? মরণের পর একদিন বিচার হবে । দেখ তোরা যতই নারী অধিকার শ্লোগানে মুখরিত করছিস । তার কি কোন প্রতিফলন নারীরা পেয়েছে । ফল হচ্ছে কিন্তু সম্পূর্ণ উল্টা । যেমন – আরো বেশি ধর্ষণ ,অপহরন,এসিড নিক্ষেপ , যৌতুক, নির্যাতন ইত্যাদি । আর তোর বয়স এখন ত্রিশ। তোর এখন বিয়ে করে সংসার গড়া দরকার । দেখ আমার বিয়ে হয়ে গেছে,আমার স্বামী একজন আলেম । আমি খুব সুখে আছি । ইসলামের বিধান মেনে চল , অন্ধকার থেকে আলোর পথে আয় । নাসরীন বলল- তোর বক্তৃতা শুনেছি, আমি এখন যাই। তুই আখেরাত নিয়ে আছিস, তোর আলোর পথ নিয়ে তুই থাক ।

নাহিদা সকালে নামায ও কুরআন তেলাওয়াত শেষে নাস্তা খেতে বসেছে। এমন সময় হকার এসে পত্রিকাটি দিয়ে গেল । নাস্তা শেষে পত্রিকাটি হাতে নিয়ে চোখ বোলাতে লাগল। এক জায়গায় এসে চক্ষু আটকে যায়, ‘‘নারী অধিকার মিছিলকারীর উপর পুলিশের লাঠি চার্জ’’ । এই শিরোনামটির পাশে দেখল তার বান্ধবী নাসরীনের ছবি । পুলিশ তার এক হাত ধরে টানছে, অপর পুলিশের লাঠির ধাওয়ায় কয়েকটি যুবক ছেলে তার উপর পড়ে আছে । তার পরনের গেন্ঞ্জীটা ছিড়ে গেছে । নাহিদার মনের জিজ্ঞাসা ! এই বুঝি সমান অধিকার । এসবের জন্য শুধুই কি ছেলেদের দোষ দিয়ে পার পাওয়া যাবে ? এখন কবির ভাষায় বলতে হয়:

বাংলার ঘরে ঘরে আসলো একি

নগ্ন মহিলারা ঘুরছে দেখি,

পেট খুলে পিঠ খুলে করছে একি

চুল কেটে পাঙ করে বেড়ায় দেখি।

আজকাল মেয়েরা ছেলে হতে চায়

শার্ট পেন্ট পরে তারা রাজপথে যায়,

হাফ পেন্ট পড়ে তারা হেলায় হেলায়

সম অধিকার চেয়ে মিছিলেও যায়।

বুক টান করে তারা রাস্তায় নামে

এই দেখে ছেলেরা ধর্ষণে ঘামে।

এর পর কেটে গেল কয়েক বছর । নাহিদা প্রতিদিনের মত আজও পত্রিকা পড়ছে । ‘‘সমান অধিকার কর্মী নাসিমা নাসরীন আর নেই’’ শিরোনাম পড়েই সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় । এরপর নিচের কলাম পড়তে শুরু করে । নারী স্বাধীনতাকামী নাসিমা নাসরীন (৪৭) গতকাল সকাল ৬ টায় ইন্তেকাল করেন । ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ অন্যদিকে তাকে দাফন করার পর প্রশ্ন উঠেছে তার লাশ ময়না তদন্ত করা হয়নি কেন ? মৃত্যুর একমাস আগে সে এক মিছিলে যেয়ে আহত হয়েছিল । এ কারণেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন । তার বিরোধী দলের নামে মামলা হয়েছে ।  নাহিদা এখন চিন্তিত , নাসরীন এই অল্প বয়সে মারা গেল । তার সন্তানের অবস্থা  কী হবে ? সে তো  কোন স্বামী গ্রহণ করেনি । সে তো কাউকে বাবা বলেও ডাকতে পারবে না, এখন মা-বাবা কেউ নেই তার।

এসব তথ্য পড়ে নাহিদার মন ভাবনার জগতে হারিয়ে যায় । মাত্র দুই দিনে এতগুলো অঙ্গ পঁচে গেল। হে নাসিমা ! কোথায় আজ তোমার রাজনীতির বাহাদুরী, সমান অধিকার আন্দোলন ? তুমিতো মরণ থেকে রেহাই পাওনি , যে অঙ্গগুলো দিয়ে তুমি এত বাহাদুরী করতে , সেগুলো আজ পঁচে গেল । এইতো দুনিয়ার অহংকার , আজ তুমি পঁচা লাশ। এই ভাবনা নিয়েই রাতে এক সময় ঘুমিয়ে পড়ে । কে যেন  এসে ডাকছে পেছন থেকে- এই নাহিদা দেখ আমার দিকে তাকাও ।

তুমি কে ?

আমি নাসিমা নাসরীন ।

সত্যিই তুমি নাসরীন , তোমার এই অবস্থা কেন ? তোমার সবকিছু এত তাড়াতাড়ি পঁচে গেছে । তোমার শরীরের কাপড় উঠাও তোমাকে দেখি ।

হ্যাঁ নাহিদা সত্যিই । এই দেখ বলে সে কাপড় উঠাল শরীরের , একি ভয়ংকর দৃশ্য ! সে ঘাবড়ে গেল এবং জিজ্ঞাসা করল- একি অবস্থা  তোমার । এগুলো পঁচে গেছে ঠিক, কিন্তু এগুলো সব আমার পাপের ফল । কারণ এই চেহারা, মুখ দিয়ে পুরুষকে আকর্ষণ করেছি । আমার জিহ্বার দ্বারা হারাম কথা বলেছি ও প্রচার করেছি অবৈধ পথ।

মাথায় কোন দিন কাপড় দেইনি , পর্দা করিনি । আমার  যৌবনকাল আমার ইচ্ছা মতো চালিয়েছি । আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলিনি কোন দিন । তাই আমার এই অঙ্গগুলোর মধ্যে আজাব হচ্ছে । আমি সহ্য করতে পারছি না । আমার এই অঙ্গগুলোতে সাপ-বিচ্ছু দংশন করে আজাবের ফেরেশতারা নিত্যদিন শাস্তি দিচ্ছে । আর বোন নাহিদা তুমি তো দেখছ আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের করুণ অবস্থা , তাতো আমার পাপের ফল । এথেকে দুনিয়ার মানুষের চিন্তা করে শিক্ষা নেয়া দরকার । আমার মত পাপের পথে আর কেউ যেন পা না রাখে । এরকম কঠিন আজাবে যেন গ্রেফতার না হয় । এতটুক বলে নাসরীন নাহিদার হাত ধরে বলল-এসো আমার কবরে এবং আজাবের নমুনা দেখে যাও বলে সামনে চলল।

নাহিদা অনুভব করে নাসরীনের হাতের ছোঁয়ায় নাহিদার সারা শরীর বিষে ছেয়ে  যাচ্ছে । সামনে থেকে ধেয়ে আসছে বিশাল আগুনের খন্ড, ভয়ংকর দৃশ্য দেখে ভয়ে নাহিদা এক চিৎকার দিয়ে বলল -আমাকে ছেড়ে দাও নাসরীন।  এই বলে যখন তার হাতটি জোরে টান দিল , এমনি হাতটি গিয়ে পাশের দেয়ালের সাথে আঘাত লাগে । তার ঘুম ভেঙে যায় । দূর থেকে ভেসে আসে ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান্নাওম’ । তাড়তাড়ি বিছানা ছেড়ে দেয় নামাযের জন্য ।

Comments

comments






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Facebook

Likebox Slider Pro for WordPress