Main Menu

শাহজালাল রাহ. ও শাহজালালের মাযার কখনও এক বিষয় নয়

 বর্তমান অজ্ঞতার যুগে মানুষের বিচার-বিবেচনা এতই হ্রাস পেয়েছে যে, অশ্রুতপূর্ব কথা-বার্তা এবং অভাবিতপূর্ব ধ্যান-ধারণা কর্ণগোচর হওয়া স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কবর ও মাযারের গর্হিত কার্যকলাপ এবং শিরক ও বিদআত সম্পর্কে যখন কাউকে সাবধান করা হয়,

যেমন কবরে মেলা বসানো, ওরস করা, আলোকসজ্জা করা, ফুল দেওয়া, কবরের উপর ছাদ বা ইমারত নির্মাণ করা, কবরের তাওয়াফ করা, সেজদা করা, কবর কিংবা তার উপর নির্মিত দেয়াল বা ইমারতে হাত বুলানো বা চুম্বন করা, কবরওয়ালার নিকটে প্রার্থনা, মাযারের নামে মান্নত, মাযারের উদ্দেশে সফর, নারীদের মাযারে গমন, পর্দাহীনতা, পুরুষের সঙ্গে মেলামেশা ইত্যাদি শিরক, বিদআত ও গর্হিত কার্যকলাপ সম্পর্কে যখন সাবধান করা হয় তখন কিছু মানুষ বোকার মতো বলতে থাকে যে, ভাই! এই সব কাজ তো শাহজালাল রাহ. এবং অমুক অমুক বুযুর্গের মাযারে হয়ে থাকে। তাহলে তা না-জায়েয কীভাবে হয়?

এমনিভাবে অনেকে মাযারের গর্হিত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করাকে বুযুর্গদের সঙ্গে বেআদবী বলে মনে করে! তাহলে কি তারা বুযুর্গের মাযারকেই বুযুর্গ মনে করে কিংবা মনে করে যে, মাযারে শায়িত বুযুর্গেরা এইসব মাযার ও মাযার-পুজার সূচনা করে গেছেন? অথবা মাযার-ব্যবসায়ী ভণ্ড এবং মাযার-পুজারী ভক্তদেরকেও বুযুর্গানে দ্বীন মনে করে?! শাহজালালের দরগায় গর্হিত কার্যকলাপে লিপ্ত লোকেরাও কি শাহজালাল?! একথা তো বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন হয় না যে, কোনো ব্যক্তি নিজের কবরকে মাযারে পরিণত করতে পারে না। কবরে শায়িত ব্যক্তি কীভাবে ওই কবরের উপর মাযার নির্মাণ করবে? অতএব বুযুর্গানে দ্বীনের কবরকে মাযারে পরিণত করা এবং তাতে বিভিন্ন গর্হিত কর্মকাণ্ড আরম্ভ করা নিশ্চয়ই পরবর্তী কারো কাজ হবে।
শাহজালাল রাহ.-এর কবরে এইসব কাজ কারা শুরু করেছে? তাঁর কোনো শীষ্য, খলীফা, সুন্নতের অনুসারী কোনো বুযুর্গ? কক্ষনো না; বরং এসব তাঁর ইন্তেকালের বহু বছর পর একশ্রেণীর মাযার-ব্যবসায়ী এবং সুফী-সাধনার নামে অবাধ যৌনতা ও উচ্ছৃঙ্খলতার পৃষ্ঠপোষক বিদআতী ও মুলহিদ গোষ্ঠীর উদ্ভাবন।
এজন্য কেউ যদি এইসব গর্হিত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করেন এবং মাযারের পাণ্ডা ও দর্শনার্থীদের সম্পর্কে (যারা ভ্রান- উদ্দেশ্যে বা ভুল পন্থায় যিয়ারত করে থাকে) আপত্তি করেন তা হবে ঈমানের দাবি পূরণ, যা মাযারে শায়িত ওইসব বুযুর্গরাও প্রচার করে গেছেন, তাকে বুযুর্গানে দ্বীনের মর্যাদা নষ্টকারী বা বিদ্বেষ পোষণকারী আখ্যা দেওয়া চরম মূর্খতা। তাঁরা বুযুর্গানে দ্বীনের অবমাননাকারী নয়; বরং তাঁদের ঈমানী ও কুরআনী শিক্ষারই ধারক-বাহক। অতএব সাবধান; মাযার ও মাযারে শায়িত বুযুর্গদের এক মনে করবেন না। অন্যথায় আপনিই হবেন বুযুর্গানে দ্বীনের অবমাননাকারী।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের দীনের বুঝ দান করুন। শরিয়তের প্রতিটি বিধান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তরিকা মতো আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Comments

comments






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Facebook

Likebox Slider Pro for WordPress