Main Menu

শাইখ ফরিদুদ্দিন আত্তার ব্যবসায়ী থেকে হলেন জান্নাতের ফুল! আবু লাবিব

 

দুনিয়া আখেরাত সুসজ্জিত করার জায়গা। নিজের জান্নাতকে নিজের মতো করে সাজানোর জায়গা। আল্লাহর বান্দা হয়ে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের , তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের মোক্ষম স্থান। কিন্তু নফস, শয়তান এবং দুনিয়ার চাকচিক্যে আমরা সে সকল সুযোগ হাতছাড়া করে আগুনের লাকড়ি হবার উপযোগী হয়। চেষ্টার সবটুকু দিয়ে আল্লাহর ক্রোধকে কিনি। জেনে বুুঝে জাহান্নামের দিকে চলতে থাকি অবিরাম। যেন বড় পুরস্কারের কোনো প্রতিযোগিতা। অথচ কুরআন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সতর্কবানী, উলামা-মাশায়েখদের অবিরত উপদেশ লেলিহান শিখা বের হওয়া অনন্ত জ¦লনের স্থান জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য কত চেষ্টা করছে। আমরা অবাধ্য মানুষগুলোর কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই সেদিকে।

আমাদের চারপাশে ভালো-মন্দ যা কিছু, সবই যেন আমাদের জন্য সতর্কবানী। যারা ভালো কাজ করে, সুনাম কুড়ায় তাদের কাজ আমাদের বলে এসো, ভালোর দিকে এসো। তা তাই পাবে যা তারা পেয়েছে। খারাপ করে যারা নিন্দিত হয়েছে, মানুষের ঘৃণা যাদের বড় অর্জন, সে খারাপ যেনো কেঁদে কেঁদে বলছে, সাবধান আমাকে সঙ্গি বানিও না। তা হলে যা কিছু তুমি দেখতে পাচ্ছ, লাঞ্ছনা, অপদস্থতা আর আকাশ আকাশ ঘৃণা এসব তুমিও পাবে। তো সাবধান হও। আমরা তারপরও সাবধান হয় না। ভালোকে বুকে আকড়ে ধরি না। খারাপ থেকে পলায়ন করতে উদ্যত হই না।

তবে আল্লাহ তায়ালার কিছু বান্দাহ আছেন, যারা সত্যিটাকে যখনই আঁচ করতে পেরেছেন এক বিন্দু দেরী করেননি, সাথে সাথে বুকে টেনে নিয়েছেন। জীবন দিয়ে, পুরো শক্তি দিয়ে সেটাকে আঁকড়ে ধরেছেন। এর বিপরীতে যা কিছু বর্জন করার, অর্থ-সম্পদ, প্রতাপ-প্রতিপত্তি সবকিছু ত্যাগ করেছেন ভালোর জন্য। দুনিয়ায় বসে জান্নাত সাজাবার জন্য। আল্লাহ তায়ালাকে খুশি করবার জন্য । জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য।

তেমনি একজন ব্যক্তি হলেন শায়খ ফরিদুদ্দিন আত্তার রহ.। তিনি ছিলেন একজন ইউনানি ঔষধ ও আতর ব্যবসায়ী। এ কারণেই তাকে আত্তার বলা হতো। ঔষধ এবং আতরের বিশাল দোকান ছিল তাঁর। দারুন ব্যবসা ছিল। যাকে সফল ব্যবসায়ী বলা যায়। তখনকার যুগের একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী।

একদিনের ঘটনা। একজন দরবেশ তার দোকানে প্রবেশ করলেন। আত্মভোলা। ঝীর্ণশীর্ণ পোষাক। এসেই ডান-বাম, উপর-নীচ মোটকথা পুরো দোকান গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ শুরু করলেন। একবার একটি শিশি হাতে নেন। নাড়াচাড়া করেন। আবার গভীর দৃষ্টিতে কি যেন দেখেন। আবার আরেকটি শিশি হাতে নেন। আবার আগের মতো করেন। তাঁর কাজগুলো হযরত ফরিদুদ্দিন আত্তার রহ. এর দৃষ্টি এড়ায়নি। তিনি খেয়াল করছেন কিন্তু কিছুই বলছেন না।

এভাবে কিছু সময় অতিবাহিত হবার পর তিনি জানতে চাইলেন,

আপনি কি করছেন?

উত্তরে দরবেশ লোকটি বলল, না, কিছু না। শুধু শিশিগুলো দেখছি।

আবার প্রশ্ন করলেন, আপনি কি কিছু কিনতে চাচ্ছেন?

-না, আমার কিছু কেনার প্রয়োজন নেই। ব্যস, কেবল দেখছি।

এই বলে দরবেশ আলমারির শিশিগুলোর প্রতি নজর বোলাতে লাগলেন।

এবার শাইখ আত্তার রহ. কিছুটা বিরক্তভঙ্গিতে বলে উঠলেন, অবশেষে আপনি দেখছেনটা কি?

-দরবেশ এবার বলল, আমি দেখছি মারা যাবার সময় আপনার প্রাণ বের হবে কীভাবে? কারণ আপনার দোকারে যেরূপ শিশির বিশাল সমাহার দেখা যাচ্ছে, আপনি যখন মারা যাবেন, তখন আপনার প্রাণ কখনও এ শিশিতে, কখনো ওই শিশিতি ঢুকে পড়বে। এতগুলো শিশির মধ্যে আপনার প্রাণ তখন কোন পথে বের হবে? বের হবার পথ তখন সে কীভাবে খুঁজে পাবে?

যেহেতু তিনি তখনও একজন ব্যবসায়ী ছিলেন, এমন কথা শোনে তিনি খুব রেগে গেলেন। বললেন, আপনি আমার প্রাণের চিন্তা করছেন, আপনার প্রাণ বের হবে কীভাবে?

দরবেশ বললেন, আমার প্রাণ বের হওয়ার ব্যাপারে এতো চিন্তা কিসের ! কারণ আমি রিক্ত হস্ত। ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকান-পাট. শিশি-বোতল, অর্থ-সম্পদ বলতে আমার কিছু নেই। এতটুকু বলেই দরবেশ দোকান থেকে বের হয়ে মাটিতে শুয়ে গেলেন। কালিমায়ে শাহাদাত “আশহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লাল লা, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ও রসুলুহ পাঠ করলেন।” এভাবে প্রাণ বায়ূ উড়ে যাবার পর দরবেশ নিস্তেজ হয়ে গেলেন।

এ ঘটনাটি হযরত ফরিদুদ্দিন আত্তার রহ. এর অন্তর কাঁপিয়ে দিল। তিনি ভাবলেন, সত্যিই তো। আমি দিনরাত সবসময় দুুনিয়ার পেছনে দৌড়ঝাপ দিচ্ছি। আল্লাহ তায়ালাকে তো আসলেই আমি ভুলতে বসেছি। তার কোনো ধ্যান-ধারনা, চিন্তা-ফিকির আমার মধ্যে নেই। অথচ আল্লাহ তায়ালার এ বান্দা কীভাবে প্রশান্ত চিত্তে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আল্লাহর কাছে চলে গেল।

আর এ ঘটনাটি শায়খ ফরিদুদ্দিন আত্তার রহ. এর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল। তিনি সেদিনই তার সকল ব্যবসা বাণিজ্য অন্যের হাতে সোপর্দ করে দিলেন। আর শুরু করে দিলেন আখিরাতের সাধনা। আল্লাহর প্রিয় ব্যবসায় নিজেকে সম্পূর্ণ নিয়োজিত করলেন। আর তিনি এতে এতটা সফল হলেন যে, শেষ পর্যন্ত দুনিয়া বাসির হিদায়াতের মিনার হয়ে গেল পরবর্তী মানুষের জন্য তার সোনালী জীবন।

একেই বলে দেখা অন্তর চোখে। উপদেশ গ্রহণ করা নিজের চারপাশ থেকে। আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে ভীষণ ভালোবাসেন। কিন্তু আমরা বান্দারা নাফরমানিতে ডুবে আল্লাহর ভালোবাসাকে, চির-শান্তির জান্নাতকে উপেক্ষা করি।

আসুন হে পাঠক, আজ থেকেই আমার চারপাশে যতভালো সবগুলোকে গ্রহণের প্রতিযোগিতায় রত হয়। যত খারাপ চারপাশ জুড়ে তার থেকে নিজেকে বাঁচাই। পালিয়ে বেড়াই দূরে-বহুদূরে। ফলে পেয়ে যাবো আমার আল্লাহকে যিনি আমায় সবচে বেশি ভালোবাসেন। মিলে যাবে তার সন্তুষ্টি । থাকতে পারব চিরসুখের জান্নাতে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাওফিক দান করুন এবং কবুল করুন। আমিন।

Comments

comments






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Facebook

Likebox Slider Pro for WordPress