Homeসমকালিন প্রবন্ধ

শাইখ আব্দুর রহমান আল-হুজাইফি -এর ১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক আগুনঝরা খুতবা

শাইখ আব্দুর রহমান আল-হুজাইফি -এর ১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক আগুনঝরা খুতবা
Like Tweet Pin it Share Share Email

ইসলাম ইহুদ-নাসারাদের ইসলামের অধীর থেকে তাদের নিজ ধর্ম মতে চলার স্বীকৃতি দান করে-যদি তারা অর্থও নিরাপত্তামূলক বিষয়াদিতে ইসলামের আহকাম মেনে চলে। অর্থাৎ অর্থ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ বা ষড়যন্ত্র করলে সে স্বীকৃতি বহাল থাকবে না। ইসলাম তাদেরকে কখনই ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করে না।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
ধর্মীয় বিষয়ে কোনো জবরদস্তি নেই, নিশ্চয় হেদায়েতের পথ গোমরাহি পথ থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে। সুরা বাকারা : ২৫৬
তবে ইসলাম এটা পরিস্কারভাবে বলে যে, তাদের মতাদর্শ অবশ্যই বাতিল ও অগ্রাহ্য। তা সত্ত্বেও তাদেরকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয় না। কারণ, ইসলাম মানবতার প্রতি তার ন¤্র ও হিতাকাংখী সূলভ আচরণ দ্বারা তাদের চিন্তা-চেতনায় স্বাধীনতার প্রতি তার ন¤্র ও মার্জিত আচরণ দিয়ে তাদের চিন্তা-চেতনায় স্বাধীনতার সুযোগ দান করে। যাতে স্বাধীনভাবে যার ইচ্ছে ঈমান এনে মুসলমান হয়। আর যার ইচ্ছে কাফেরই থাকে। তারপরও যদি ইহুদ-নাসারা ও মুশরিকগণ ইসলামে প্রবেশ করে, ইসলাম তাদের আপন ভাইয়ের মতো করে বুকে টেনে নেয়। ফলে তারাও মুসলমানদের সত্যিকারের ভাই-ই হয়ে যায়। কারণ ইসলামের দৃষ্টিতে জাত-পাত, বর্ণ-গোত্র ইত্যাদির কোনো ভেদাভেদ নেই। ইসলামের সোনালী ইতিহাস যার জ¦লন্ত স্বাক্ষী।
মহান আল্লাহ বলেন,
হে মানবসকল! আমি তোমাদের সবাইকে এক পুরুষ ও নারী আদম -হাওয়া থেকে সৃষ্টি করেছি। আর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা একে অপরকে চিনতে পার। প্রকৃতপক্ষে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশি মর্যাদাবান সেই, যে তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে অধিকতর ভয় করে চলে। সুরা হুজুরাত : ১৩

ধর্মীয় সম্প্রীতির শ্লোগান দিয়ে সকলধর্ম সঠিক এবং একটি অপরটির কাছাকাছি এমন ধারণাকে ইসলাম কখনই প্রশ্রয় দেয় না। বরং ইসলাম এটাকে ভয়াবহ মনে করে এবং অস্বীকার করে। এমন শ্লোগান দিয়ে, ইসলামকে ইহুদীবাদ খ্রীষ্টাবাদের সাথে গুলিয়ে ফেলার অপপ্রয়াস অবান্তর। এমন কখনই সম্ভব নয় । আর হবে
তাদের কাছে অত্যন্ত কঠিন মনে হয়। আল্লাহ যাকে চান বেছে নিয়ে নিজের দিকে টানেন। আর যে-কেউ তার অভিমুখী হয় তাকে নিজের কাছে পৌঁছে দেন। সুরা শুরা : ১৩
ইহুদি পন্ডিত ও খ্রীষ্টান পাদ্রীগণ খুব ভালোভাবেই জানত, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ধর্মই একমাত্র সত্য ধর্ম। তিনিই সর্বশেষ নবি। কিন্তু তাঁর অনুসরণে, তাকে সর্বশেষ নবি মানতে প্রতিবন্ধক তাদের হিংসা। অহম। পার্থিব জগতের কুৎসিত মোহ আর মনের কু-প্রবৃত্তি। অথচ তারাও জানে, তাঁকে না-মানা, তাঁর প্রতি এমনতর বিদ্বেস তাদের কোনো প্রকার উপকারে আসবে না। তাদের দৈারাত্ব অনেক আগে সীমা ছাড়িয়ে গেছে। নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাবের আগেই তাদের প্রতি অবতীর্ণ আসমানী গ্রন্থগুলি রদবদলের মতো জঘণ্য কাজটি করেছে। তাঁদের ধর্মের মারাত্মক বিকৃতি ঘটিয়েছে। তারা নিশ্চিতভাবে কুফরি ও পথ ভ্রষ্টতায় লিপ্ত।
হক ও বাতিলের এ সংক্ষিপ্ত স্বরূপ উন্মোচনের পর বলতে হয়, বর্তমান যুগের কিছু ইসলামি চিন্তাবিদগণ, যারা ইসলামি আকিদার প্রাথমিক ও মৌলিক বিষয়াদি সম্পর্কে পর্যন্ত ওয়াকিফ নন, তারা একটি নতুন দাওয়াত উত্থাপনের অপচেষ্টায় মেতে উঠেছেন। একদিকে কিভাবে ইসলাম এবং ইহুদি ও খ্রীষ্টবাদকে পরষ্পর নিকটবর্তী করা যায়। আর অন্যদিকে কিভাবে আহলে সুন্নাতের আকিদা ও শিয়া মতাদর্শকে পরষ্পর নিকবর্তী করা যায়। এ বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। বরং এমন চিন্তা-চেতনা এ যুগে অত্যন্ত ভয়ংকর। আজ যখন বিশ্বব্যাপি মুসলিম-অমুসলিমদের মধ্যকার সকললড়াই ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতেই সংঘটিত হচ্ছে । ধর্মীয় স্বার্থেই আজ যতসব বিবাদ। তবে হক-বাতিলের এমন প্রকাশ্য দ্বন্ধে, বিপরীত ধর্মী দুটি ধারার একত্রিকরণ আদো কি সম্ভব? ইসলাম ইহুদি-নাসারাগণকে বাতিলের রাস্তা পরিহার করে জান্নাতের অধিকারী হওয়ার প্রকাশ্য দাওয়াত দিচ্ছে।
আল্লাহ তাআ’লা বলেন,
হে আসমানী কিতাবপ্রাপ্ত ইহুদ-নাসারারা! এসো এমন বাণী গ্রহণের পথে, যা আমাদের ও তোমাদের মাঝে সমানভাবে স্বীকৃত, আর তা হলো, আমরা আল্লাহ ছাড়া কারও দাসত্ব করব না, আল্লাহর সঙ্গে কাউকেই শরিক সাব্যস্ত করব না, আল্লাহর সঙ্গে আর কাউকে পরষ্পর রব বলে স্বীকৃতি দেব না। অতএব তারা যদি (এ দাওয়াত গ্রহণ থেকে বিমুখ হয়, তাহলে হে মু’মিনগণ) তোমরা তাদেরকে পরিস্কার বলেও দাও , তোমরা সাক্ষী থাকÑ ‘নিশ্চয় আমরা মুসলমান’।
সুরা আলে ইমরান, ৬৪

ইসলাম ইহুদ-নাসারাদের ইসলামের অধীর থেকে তাদের নিজ ধর্ম মতে চলার স্বীকৃতি দান করে-যদি তারা অর্থও নিরাপত্তামূলক বিষয়াদিতে ইসলামের আহকাম মেনে চলে। অর্থাৎ অর্থ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ বা ষড়যন্ত্র করলে সে স্বীকৃতি বহাল থাকবে না। ইসলাম তাদেরকে কখনই ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করে না।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
ধর্মীয় বিষয়ে কোনো জবরদস্তি নেই, নিশ্চয় হেদায়েতের পথ গোমরাহি পথ থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে। সুরা বাকারা : ২৫৬
তবে ইসলাম এটা পরিস্কারভাবে বলে যে, তাদের মতাদর্শ অবশ্যই বাতিল ও অগ্রাহ্য। তা সত্ত্বেও তাদেরকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয় না। কারণ, ইসলাম মানবতার প্রতি তার ন¤্র ও হিতাকাংখী সূলভ আচরণ দ্বারা তাদের চিন্তা-চেতনায় স্বাধীনতার প্রতি তার ন¤্র ও মার্জিত আচরণ দিয়ে তাদের চিন্তা-চেতনায় স্বাধীনতার সুযোগ দান করে। যাতে স্বাধীনভাবে যার ইচ্ছে ঈমান এনে মুসলমান হয়। আর যার ইচ্ছে কাফেরই থাকে। তারপরও যদি ইহুদ-নাসারা ও মুশরিকগণ ইসলামে প্রবেশ করে, ইসলাম তাদের আপন ভাইয়ের মতো করে বুকে টেনে নেয়। ফলে তারাও মুসলমানদের সত্যিকারের ভাই-ই হয়ে যায়। কারণ ইসলামের দৃষ্টিতে জাত-পাত, বর্ণ-গোত্র ইত্যাদির কোনো ভেদাভেদ নেই। ইসলামের সোনালী ইতিহাস যার জ¦লন্ত স্বাক্ষী।
মহান আল্লাহ বলেন,
হে মানবসকল! আমি তোমাদের সবাইকে এক পুরুষ ও নারী আদম -হাওয়া থেকে সৃষ্টি করেছি। আর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা একে অপরকে চিনতে পার। প্রকৃতপক্ষে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশি মর্যাদাবান সেই, যে তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে অধিকতর ভয় করে চলে। সুরা হুজুরাত : ১৩

ধর্মীয় সম্প্রীতির শ্লোগান দিয়ে সকলধর্ম সঠিক এবং একটি অপরটির কাছাকাছি এমন ধারণাকে ইসলাম কখনই প্রশ্রয় দেয় না। বরং ইসলাম এটাকে ভয়াবহ মনে করে এবং অস্বীকার করে। এমন শ্লোগান দিয়ে, ইসলামকে ইহুদীবাদ খ্রীষ্টাবাদের সাথে গুলিয়ে ফেলার অপপ্রয়াস অবান্তর। এমন কখনই সম্ভব নয় । আর হবেও না।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
সমান হতে পারে না অন্ধ ও চক্ষুষ্মান। আর না অন্ধকার ও আলো, ছায়া ও রোদ সমান হতে পারে। সমান হতে পারে না জীবিত ও মৃত। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়েত বাণী শ্রবণ করার তাওফিক দান করেন। আর যারা কবরে আছেন, তুমি তাদের কখনই হেদায়তের বাণী শুনাতে পার না। সুরা ফাতির : ১৯, ২০, ২১ ও ২২

আর একজন মুসলিম ইহুদী ও খৃষ্টানদের কাছাকাছি হওয়ার মাপকাঠি যদি এই হয়, মুসলিম তাদের মনোবাঞ্চা পূরণ করবে। তাদের সাথে বন্ধুত্বের খাতিরে দ্বীনের কিছু আহকাম ছেড়ে দেবে। কিংবাা দ্বীনের পূর্ণ বা কিছু অংশ বাস্তবায়নে শিথিলতা অবলম্বন করবে। এমনটা একজন সত্যিকার মুসলিমের পক্ষে কখনই সম্ভব নয়। কোনো মুসলমান এমন করতেই পারে না।
আল্লাহ তাআ’লা ইরশাদ করেন,
এমন লোক, যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী। তুমি তাদের ঐ সকল ব্যক্তিদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপনকারী পাবে না, যারা আল্লাহ ও রাসুলের বিরুদ্ধে সংগ্রামে লিপ্ত। যদিও তারা তাদের পিতা-মাতা, সন্তান কিংবা ভাই ও সমগোত্রের লোকই হোক না কেন! সুরা মুজাদালা : ২২

ইসলাম মুসলমানদের ইহুদ-নাসারাসহ অন্যান্য কাফিরদের সাথে নিরাপদ ধর্মীয় দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। এতদসত্ত্বেও ইসলাম ভীনধর্মীদের উপর জুলুম-নির্যাতন করতে কঠোর নিষেধ করে। বরং তাদের সাথে উদার মানসিকতা প্রকাশ ও পার্থিব বিষয়ে ভাল আচরণ করার নির্দেশ দেয়। একদিকে ধর্মীয় দুরত্ব অন্যদিকে সুন্দর সামাজিক সহাবস্থানের নির্দেশের সাথে মুসলমানরা এ মর্মে শক্তভাবে আদিষ্ট যে, হকের পক্ষে বাতিলের বিরুদ্ধে মোকাবেলা করে হক প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করবে আর বাতিলের অবদমনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে। এভাবে আকিদার বেলায় অন্যান্য ধর্ম থেকে পার্থক্য বজায় রেখে চলা, ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলীকে শক্ত হাতে ধারণ করা এবং ঈমান-ইসলামের উপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকার মধ্যেই মুসলমানদের জন্য ইহ-পরকালীন সৌভাগ্য, তাদের যাবতীয় সুবিধা ও সম্মান নিহিত। আল্লাহই একমাত্র হকের সাহায্যকারী আর বাতিলের বিনাশকারী।

আর ইহুদী নাসারা ও অন্যান্য ধর্ম বিশ্বাসের সঙ্গে ইসলামকে একসাথ করার প্রয়াসÑ একটি মিশ্র ধর্ম তেরী করার মতই। বরং দ্বীন ইসলামের সম্পূর্ণরূপে পরিপন্থী। যা এক ভয়াবহ ফেতনা ও ধর্মীয় বিপর্যয়ের কারণ । এমনটা ইসলামের আক্বীদাসমূহ ছিন্ন-ভিন্ন করে দেবে। মুমিনরা ঈমানে দূর্বল হয়ে যাবে এবং আল্লাহর দুশমনদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপনের মোক্ষম সুযোগ তৈরী হয়ে যাবে। যা শেষ পর্যন্ত ইসলামের অস্থিত্বকেও মিটিয়ে দেবে। অথচ আল্লাহ মুমিনদের পরস্পর বন্ধুত্ব স্থাপনের নির্দেশ দান করে বলেছেন,
মুমিন নর-নারীগণ পরস্পর বন্ধু। সুরা তাওবা : ৭১
আল্লাহ তায়ালা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন যে, কাফির-মুশরিকরা পরষ্পর যতই মত পার্থক্য থাকুক না কেন, তারা পরষ্পর বন্ধু। মহান আল্রাহ ইরশাদ করেন,
আর যারা অবিশ্বাসী কাফির, তারা পরষ্পর বন্ধু। তোমরা মুসলমানরা যদি এমন না কর, (অর্থাৎ মুশরিক পৌত্তলিকদের থেকে দুরত্ব বজায় রেখে মুমিনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন না কর) তাহলে পৃথিবীতে মহা ফেৎনা-ফ্যাসাদ বিস্তার লাভ করবে। সুরা আনফাল : ৭৩
প্রখ্যাত মুফাসসির ইমাম ইবনে কছীর রহ. এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, তোমরা মুসলমানগণ যদি কাফির-মুশরিকগণ থেকে দুরত্ব বজায় না রাখ এবং মুমিনগণের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন না কর, তাহলে মানুষের মধ্যে ইসলাম ধর্মের ব্যাপারে মহা ফিৎনা সৃষ্টি হবে। এভাবে যে, ইসলাম ও অন্যান্য ধর্ম মিশ্রিত হয়ে যাবে । মুসলমান কাফের একাকার হয়ে ইসলাম ও মুসলমান সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এবং মানুষ মহা ফেৎনা-ফ্যাসাদের শিকার হয়ে পড়বে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
হে মুমিনগণ! ইহুদ-নাসারাগণকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। আর যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে, তারা তাদের মধ্যেই পরিগণিত হবে। সুরা মায়েদা: ৫১

Comments (0)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *