Main Menu

শাইখ আব্দুর রহমান আল-হুজাইফি -এর ১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক আগুনঝরা খুতবা

[ শাইখ আব্দুর রহমান আল-হুজাইফি। মসজিদে নববির সম্মানিত খতিব। আকষ্মিকভাবে ১৯৯৮ সালে ঈদুল আযহার আগের জুমায় জাজিরাতুল আরবে অবস্থানকারী বৃটিশ-মার্কিন-ফরাসী সৈন্যদের বিরুদ্ধে সউদি হুকুমতের প্রথাবিরোধী আগুনঝরা বক্তৃতা দিলেন। বিশেষ করে শিয়াদের বিরুদ্ধে তার অনড় অবস্থান, তাদের দৌরাত্ম স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল তার বয়ানে। রাগে ক্রোধে ফেটে পড়ছিলেন প্রতিটি শব্দের উচ্চারণে। ভাষণের প্রতিটি শব্দই যেন বুক ঝাঁঝরা করা বারুদ। বিষ্ময়ের ব্যপার হলো, ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্টের সরকারী সফর চলাকালীন সময়ে কেন তিনি হঠাৎ এতটা কঠোর হুঁশিয়ারি করলেন শিয়াদের ব্যাপারে? শিয়াদের অভিহিত করলেন ইহুদি-খৃষ্টানদের চেয়েও আরো জঘন্য বলে। অথচ সৌদি সরকারের রাজকীয় মেহমান হিসেবে স্বয়ং ইরানী প্রেসিডেন্ট রফসানজানী উপস্থিত ছিলেন সে দিনের জুমাতে। ভাষণটি ভাষান্তর করে দেওয়া হলো]

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর তায়ালার। যিনি সমগ্র আলমের রব। সত্য, ন্যায় ও অন্যায়, সবকিছুর বিশদ বর্ণনাকারী। যিনি হেদায়েত ও ইয়াকিন দিয়ে মুমিনদের আত্মাকে করেছেন আলোকিত । আর শক্তিশালী করেছেন ওহীর বাণী দিয়ে তাদের অন্তর চক্ষুকে। নিজ রহমতে যাকে ইচ্ছে তিনি হেদায়েত দান করেন। আর নিজ হিকমত দিয়ে যাকে ইচ্ছে করেন পথভ্রষ্ট, ঘোমরাহ । কাফির ও মুনাফিকদের অন্তরাত্মা চিরঅন্ধ, তাতে হক্বের আলো একদম নেই । সকল সৃষ্টির উপর একমাত্র মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তায়ালা। তার প্রমাণ সুস্পষ্ট। প্রতিষ্ঠিত।

আমার রবের প্রশংসা করছি । তাঁরই শোকর আদায় করছি। তিনি সত্তায়, ক্ষমতায় যেমন পরাক্রমশালী, অসীম ও অদ্বিতীয়Ñ শোকর-প্রশংসা করছি তেমন শানানুযায়ী। সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। ইবাদতের মালেক নয় কেউ। তিনি একক, লা-শারিক। বিচার দিনের তিনিই মালিক। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমাদের নবি, আমাদের সাইয়্যেদ হযরত মুহাম্মদ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বান্দা। তাঁর রাসূল। তিনি পূর্বাপর সমগ্র বিশ্বের নেতা । যিনি প্রেরিত হয়েছেন ঐশি গ্রন্থ আল-কুরআন নিয়ে। সমস্ত মুসলমানদের জন্য যা হেদায়েত ও সুসংবাদ বহনকারী। আয় আল্লাহ! তোমার প্রিয় বান্দা, তোমার মাহবুব রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর প্রিয় সাথী ও অনুসারীদের প্রতি অসংখ্য সালাত ও সালাম প্রেরণ করছি।

হে মুসলমানগণ!
আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহকে ভয় কর যেমন ভয় করা উচিত। ইসলামের রজ্জুকে শক্ত হাতে ধারণ কর।
আল্লাহর বান্দাগণ!
মানুষকে আল্লাহ তায়ালা যত নিয়ামত দান করেছেন, অসংখ্য-অগণিত, সত্য ধর্ম ইসলাম হচ্ছে তন্মধ্যে সবচে বড়, শ্রেষ্ঠতম। যা দিয়ে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে মৃত্যুসম কুফরী থেকে জীবন দান করেন। আর গোমরাহীর আঁধার থেকে হিদায়াতের আলোতে নিয়ে আসেন।
আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,
যে ব্যক্তি মৃত, আর আমি তাকে (ইসলামের দিয়ে) জীবন দান করলাম এবং দান করলাম এমন একটি আলোকবর্তিকা, যা নিয়ে সে মানুষের মাঝে চলাফেরা করে। সে কি ঐ ব্যক্তির মতো হতে পারে, যার অবস্থা এই যে, যে অন্ধকার দ্বারা পরিবেষ্টিত, যা থেকে কখনও বের হতে পারবে না। সূরা আনয়াম : ১২২
আল্লাহ পাক আরও ইরশাদ করেন,
যে ব্যক্তি নিশ্চিত বিশ^াস রাখে যে, তোমার প্রতিপালকের নিকট থেকে তোমার কাছে যা নাযিল হয়েছে তা সত্য। সে কি ওই ব্যক্তির মতো হতে পারে, যে অন্ধ? বস্তুত উপদেশ কেবল তারাই গ্রহণ করে, যারা বোধ-বুদ্ধির অধিকারী। সুরা রাআদ : ১৯

পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য একমাত্র ইসলামই আল্লাহ তায়ালার মনোনীত ধর্ম । যা হযরত আদম আ. থেকে শুরু করে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্তÑ তাওহীদ ও রিসালতের মূলবাণীতে একই রকম। তবে যুগে যুগে আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক নবির কাছে উম্মতের উপযোগী করে বিধান নাযিল করেছেন। মৌলিক বিষয়গুলোতে তেমন পার্থক্য ছিল না। পরবর্তীতে নিজ হিকমত মতো কিছু বিধান রহিত করেছেন। আবার নতুন নতুন অনেক বিষয়ের অবতারণাও করেছেন। আর এটা করার মালিকও একমাত্র তিনিই। মোটের উপর যখন বান্দার জন্য যে সকল বিষয় উপকারী ও সার্বজনীন, সে সব বিষয়ে নবিদের মাধ্যমে গোটা মানব জাতিকে আল্লাহ তায়ালাই সবকিছু শিক্ষা দিয়েছেন।

সর্বশেষ আল্লাহ তায়ালা মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণ করলেন। তাকেই প্রেরণ করে তাঁর আগের সকল শরীয়তকে রহিত করে দিয়েছেন। মানব-দানব সবাইকে একমাত্র তারই প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে তাঁর অনুসরণের জন্য আদেশ করেছেন।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
বলুন, হে মানুষ-সকল! নিশ্চয় আমি তোমাদের সকলের প্রতি ঐ মহান আল্লাহর তরফ থেকে প্রেরিত, যার হাতে রয়েছে আসমান-যমীনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই। জীবন-মরণ একমাত্র তিনিই দান করেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর প্রতি এবং ঐ মহান উম্মী নবির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর । যিনি আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর যাবতীয় বাণীসমূহের প্রতি বিশ্বাসী। এতে তোমরা হেদায়ত প্রাপ্ত হবে।
সূরা আরাফ : ১০৮
হাদিসে পাকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
ঐ মহান সত্ত্বার কসম, যার কুদরতি হাতে আমার জীবন, পৃথিবীর কোন ইহুদী কিংবা খ্রীষ্টান আমার নবুয়ত সম্পর্কে শুনল অথচ আমার প্রতি ঈমান আনল না, সে নিশ্চিত জাহান্নামে প্রবেশ করবে। সুতরাং যারা আল্লাহর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান আনবেনা, তারা নি:সন্দেহে জাহান্নামী।
ইসলাম ছাড়া অন্য যত ধর্ম, আল্লাহ তায়ালার কাছে তা ধর্মই নয়।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
ইসলামই হলো আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনিত ধর্ম। সূরা আলে ইমরান : ১৯
আল্লাহ তায়ালা আরও ইরশাদ করেন,
আর যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম তালাশ করে, কখনই তা গ্রহণ করা হবে না। আর আখেরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্থ। সুরা আল ইমরান : ৮৫
রব্বে কারিম রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পরিপূর্ণ ও সার্বজনীন ধর্ম দিয়ে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। এ ধর্মে আল্লাহর তায়ালার একাত্ববাদের কথা যেমন সুস্পষ্ট, তেমনি পূর্ববর্তী সকল নবি ও তাদের ধর্মগ্রন্থের বিশ^াসের কথাও রয়েছে।
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন :
আল্লাহ তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই পন্থাই স্থির করেছেন, যার হুকুম দিয়েছিলেন তিনি নুহকে এবং (হে রাসুল) যা আমি ওহির মাধ্যমে তোমার কাছে পাঠিয়েছি এবং যার হুকুম দিয়েছিলাম ইবরাহিম, মুসা ও ইসাকে যে, তোমরা দ্বীন কায়েম কর এবং তাতে বিভেদ সৃষ্টি করো না। ( তা সত্ত্বেও) তুমি মুশরিকদেরকে যে দিকে ডাকছ তা তাদের কাছে অত্যন্ত কঠিন মনে হয়। আল্লাহ যাকে চান বেছে নিয়ে নিজের দিকে টানেন। আর যে-কেউ তার অভিমুখী হয় তাকে নিজের কাছে পৌঁছে দেন। সুরা শুরা : ১৩
ইহুদি পন্ডিত ও খ্রীষ্টান পাদ্রীগণ খুব ভালোভাবেই জানত, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ধর্মই একমাত্র সত্য ধর্ম। তিনিই সর্বশেষ নবি। কিন্তু তাঁর অনুসরণে, তাকে সর্বশেষ নবি মানতে প্রতিবন্ধক তাদের হিংসা। অহম। পার্থিব জগতের কুৎসিত মোহ আর মনের কু-প্রবৃত্তি। অথচ তারাও জানে, তাঁকে না-মানা, তাঁর প্রতি এমনতর বিদ্বেস তাদের কোনো প্রকার উপকারে আসবে না। তাদের দৈারাত্ব অনেক আগে সীমা ছাড়িয়ে গেছে। নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাবের আগেই তাদের প্রতি অবতীর্ণ আসমানী গ্রন্থগুলি রদবদলের মতো জঘণ্য কাজটি করেছে। তাঁদের ধর্মের মারাত্মক বিকৃতি ঘটিয়েছে। তারা নিশ্চিতভাবে কুফরি ও পথ ভ্রষ্টতায় লিপ্ত।
হক ও বাতিলের এ সংক্ষিপ্ত স্বরূপ উন্মোচনের পর বলতে হয়, বর্তমান যুগের কিছু ইসলামি চিন্তাবিদগণ, যারা ইসলামি আকিদার প্রাথমিক ও মৌলিক বিষয়াদি সম্পর্কে পর্যন্ত ওয়াকিফ নন, তারা একটি নতুন দাওয়াত উত্থাপনের অপচেষ্টায় মেতে উঠেছেন। একদিকে কিভাবে ইসলাম এবং ইহুদি ও খ্রীষ্টবাদকে পরষ্পর নিকটবর্তী করা যায়। আর অন্যদিকে কিভাবে আহলে সুন্নাতের আকিদা ও শিয়া মতাদর্শকে পরষ্পর নিকবর্তী করা যায়। এ বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। বরং এমন চিন্তা-চেতনা এ যুগে অত্যন্ত ভয়ংকর। আজ যখন বিশ্বব্যাপি মুসলিম-অমুসলিমদের মধ্যকার সকললড়াই ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতেই সংঘটিত হচ্ছে । ধর্মীয় স্বার্থেই আজ যতসব বিবাদ। তবে হক-বাতিলের এমন প্রকাশ্য দ্বন্ধে, বিপরীত ধর্মী দুটি ধারার একত্রিকরণ আদো কি সম্ভব? ইসলাম ইহুদি-নাসারাগণকে বাতিলের রাস্তা পরিহার করে জান্নাতের অধিকারী হওয়ার প্রকাশ্য দাওয়াত দিচ্ছে।
আল্লাহ তাআ’লা বলেন,
হে আসমানী কিতাবপ্রাপ্ত ইহুদ-নাসারারা! এসো এমন বাণী গ্রহণের পথে, যা আমাদের ও তোমাদের মাঝে সমানভাবে স্বীকৃত, আর তা হলো, আমরা আল্লাহ ছাড়া কারও দাসত্ব করব না, আল্লাহর সঙ্গে কাউকেই শরিক সাব্যস্ত করব না, আল্লাহর সঙ্গে আর কাউকে পরষ্পর রব বলে স্বীকৃতি দেব না। অতএব তারা যদি (এ দাওয়াত গ্রহণ থেকে বিমুখ হয়, তাহলে হে মু’মিনগণ) তোমরা তাদেরকে পরিস্কার বলেও দাও , তোমরা সাক্ষী থাকÑ ‘নিশ্চয় আমরা মুসলমান’।
সুরা আলে ইমরান, ৬৪

ইসলাম ইহুদ-নাসারাদের ইসলামের অধীর থেকে তাদের নিজ ধর্ম মতে চলার স্বীকৃতি দান করে-যদি তারা অর্থও নিরাপত্তামূলক বিষয়াদিতে ইসলামের আহকাম মেনে চলে। অর্থাৎ অর্থ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ বা ষড়যন্ত্র করলে সে স্বীকৃতি বহাল থাকবে না। ইসলাম তাদেরকে কখনই ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করে না।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
ধর্মীয় বিষয়ে কোনো জবরদস্তি নেই, নিশ্চয় হেদায়েতের পথ গোমরাহি পথ থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে। সুরা বাকারা : ২৫৬
তবে ইসলাম এটা পরিস্কারভাবে বলে যে, তাদের মতাদর্শ অবশ্যই বাতিল ও অগ্রাহ্য। তা সত্ত্বেও তাদেরকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয় না। কারণ, ইসলাম মানবতার প্রতি তার ন¤্র ও হিতাকাংখী সূলভ আচরণ দ্বারা তাদের চিন্তা-চেতনায় স্বাধীনতার প্রতি তার ন¤্র ও মার্জিত আচরণ দিয়ে তাদের চিন্তা-চেতনায় স্বাধীনতার সুযোগ দান করে। যাতে স্বাধীনভাবে যার ইচ্ছে ঈমান এনে মুসলমান হয়। আর যার ইচ্ছে কাফেরই থাকে। তারপরও যদি ইহুদ-নাসারা ও মুশরিকগণ ইসলামে প্রবেশ করে, ইসলাম তাদের আপন ভাইয়ের মতো করে বুকে টেনে নেয়। ফলে তারাও মুসলমানদের সত্যিকারের ভাই-ই হয়ে যায়। কারণ ইসলামের দৃষ্টিতে জাত-পাত, বর্ণ-গোত্র ইত্যাদির কোনো ভেদাভেদ নেই। ইসলামের সোনালী ইতিহাস যার জ¦লন্ত স্বাক্ষী।
মহান আল্লাহ বলেন,
হে মানবসকল! আমি তোমাদের সবাইকে এক পুরুষ ও নারী আদম -হাওয়া থেকে সৃষ্টি করেছি। আর তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা একে অপরকে চিনতে পার। প্রকৃতপক্ষে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশি মর্যাদাবান সেই, যে তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে অধিকতর ভয় করে চলে। সুরা হুজুরাত : ১৩

ধর্মীয় সম্প্রীতির শ্লোগান দিয়ে সকলধর্ম সঠিক এবং একটি অপরটির কাছাকাছি এমন ধারণাকে ইসলাম কখনই প্রশ্রয় দেয় না। বরং ইসলাম এটাকে ভয়াবহ মনে করে এবং অস্বীকার করে। এমন শ্লোগান দিয়ে, ইসলামকে ইহুদীবাদ খ্রীষ্টাবাদের সাথে গুলিয়ে ফেলার অপপ্রয়াস অবান্তর। এমন কখনই সম্ভব নয় । আর হবে
তাদের কাছে অত্যন্ত কঠিন মনে হয়। আল্লাহ যাকে চান বেছে নিয়ে নিজের দিকে টানেন। আর যে-কেউ তার অভিমুখী হয় তাকে নিজের কাছে পৌঁছে দেন। সুরা শুরা : ১৩
ইহুদি পন্ডিত ও খ্রীষ্টান পাদ্রীগণ খুব ভালোভাবেই জানত, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ধর্মই একমাত্র সত্য ধর্ম। তিনিই সর্বশেষ নবি। কিন্তু তাঁর অনুসরণে, তাকে সর্বশেষ নবি মানতে প্রতিবন্ধক তাদের হিংসা। অহম। পার্থিব জগতের কুৎসিত মোহ আর মনের কু-প্রবৃত্তি। অথচ তারাও জানে, তাঁকে না-মানা, তাঁর প্রতি এমনতর বিদ্বেস তাদের কোনো প্রকার উপকারে আসবে না। তাদের দৈারাত্ব অনেক আগে সীমা ছাড়িয়ে গেছে। নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাবের আগেই তাদের প্রতি অবতীর্ণ আসমানী গ্রন্থগুলি রদবদলের মতো জঘণ্য কাজটি করেছে। তাঁদের ধর্মের মারাত্মক বিকৃতি ঘটিয়েছে। তারা নিশ্চিতভাবে কুফরি ও পথ ভ্রষ্টতায় লিপ্ত।
হক ও বাতিলের এ সংক্ষিপ্ত স্বরূপ উন্মোচনের পর বলতে হয়, বর্তমান যুগের কিছু ইসলামি চিন্তাবিদগণ, যারা ইসলামি আকিদার প্রাথমিক ও মৌলিক বিষয়াদি সম্পর্কে পর্যন্ত ওয়াকিফ নন, তারা একটি নতুন দাওয়াত উত্থাপনের অপচেষ্টায় মেতে উঠেছেন। একদিকে কিভাবে ইসলাম এবং ইহুদি ও খ্রীষ্টবাদকে পরষ্পর নিকটবর্তী করা যায়। আর অন্যদিকে কিভাবে আহলে সুন্নাতের আকিদা ও শিয়া মতাদর্শকে পরষ্পর নিকবর্তী করা যায়। এ বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। বরং এমন চিন্তা-চেতনা এ যুগে অত্যন্ত ভয়ংকর। আজ যখন বিশ্বব্যাপি মুসলিম-অমুসলিমদের মধ্যকার সকললড়াই ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতেই সংঘটিত হচ্ছে । ধর্মীয় স্বার্থেই আজ যতসব বিবাদ। তবে হক-বাতিলের এমন প্রকাশ্য দ্বন্ধে, বিপরীত ধর্মী দুটি ধারার একত্রিকরণ আদো কি সম্ভব? ইসলাম ইহুদি-নাসারাগণকে বাতিলের রাস্তা পরিহার করে জান্নাতের অধিকারী হওয়ার প্রকাশ্য দাওয়াত দিচ্ছে।
আল্লাহ তাআ’লা বলেন,
হে আসমানী কিতাবপ্রাপ্ত ইহুদ-নাসারারা! এসো এমন বাণী গ্রহণের পথে, যা আমাদের ও তোমাদের মাঝে সমানভাবে স্বীকৃত, আর তা হলো, আমরা আল্লাহ ছাড়া কারও দাসত্ব করব না, আল্লাহর সঙ্গে কাউকেই শরিক সাব্যস্ত করব না, আল্লাহর সঙ্গে আর কাউকে পরষ্পর রব বলে স্বীকৃতি দেব না। অতএব তারা যদি (এ দাওয়াত গ্রহণ থেকে বিমুখ হয়, তাহলে হে মু’মিনগণ) তোমরা তাদেরকে পরিস্কার বলেও দাও , তোমরা সাক্ষী থাকÑ ‘নিশ্চয় আমরা মুসলমান’।
সুরা আলে ইমরান, ৬৪

চলবে…

Comments

comments






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Facebook

Likebox Slider Pro for WordPress