Main Menu

এভাবে চালাই এবং চলি     উম্মে লাবিব সাদিয়া

বাবা-মার জীবনের চেয়েও সন্তান অধিক প্রিয়। কুরআনে সন্তানকে যিনাতুদ দুনিয়া তথা পার্থিব সৌন্দর্য বলেছে। সন্তান সন্তুতি ছাড়া পৃথিবীটাই অসুন্দর। বসবাসের অযোগ্য যেন। বাবা-মা মাত্রই সন্তানের কল্যাণকামী। সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তা যাদের রক্তের শিরায় শিরায়।

 

আল-কুরআন হযরত লোকমান আ. বর্ণিত সন্তানদের দেয়া ওসিয়ত বণর্না করেছে। এতে একজন সত্যিকার বাবা-মার পরিচয় পাওয়া যায়। বর্তমান দুনিয়ায় মানুষ যেন যন্ত্রমানব। অর্থ, প্রাচূর্যই যেন সবকিছু। নৈতিকতা, আদর্শ, বিশ্বাস। এগুলোর ব্যাপারে সবাই উদাসিন। কোনো পরোয়া নেই। অথচ পৃথিবীর অস্তিত্ব রক্ষার জন্যও এগুলোর কত বেশি প্রয়োজন। সম্মান, আত্মমর্যাদাবোধ, পরোকাল এগুলো জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তবে ভালোদের বিলুপ্তি এখনো ঘটেনি দুনিয়া থেকে। এখনো কিছু মানুষ আছে, যারা তাদের সন্তানদের সত্যিকারের মানুষরূপে গড়তে চায়। নিজের সুন্দর আখিরাতের জন্য। মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষে। এক ইয়ামানি পিতা তার সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য একটা গৃহসংবিধান তৈরি তা ঘরে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। যাতে সবাই সতর্ক হয়ে চলতে পারে। মেনে চললে আমাদের এবং আমাদের সন্তান, সবার উপকারে আসবে। আর তা হলো :

 আমাদের গৃহসংবিধান

  1. সময় মতো সালাত
  2. কথা বলার সময় দু’টি শব্দ কিছুতেই ভুলা চলবে না :

ক.মিন ফাদলিক, অনুগ্রহ করে…

খ.শুকরান, ধন্যবাদ-জাযাকাল্লাহু খাইরান!

  1. কোনও মারামারি চলবে না। গালাগালি চলবে না। রুচি বিগর্হিত কোনও শব্দও উচ্চারণ করা চলবে না।
  2. পরিপূর্ণ আদব ও স্পষ্টতার সাথে নিজের কথা খুলে বলা।
  3. যা খুলেছ নিজেই তা বন্ধ করবে (দরজা-জানালা-তাক-কৌটা-বাক্স)। যা ফেলেদিয়েছ যথাস্থানে তুলে রাখবে, ঘরের প্রতিটি স্থানকে অাগের চেয়ে সুন্দর করে রাখবে!
  4. তোমার কামরা তোমার দায়িত্ব।পরিচ্ছন্নতা, বিন্যাস, পরিপাটি।
  5. যেই কথা বলুক, তাকে নাথামিয়ে পরিপূর্ণ মনযোগ দিয়ে তার কথা শ্রবণ।
  6. ঘরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় সালাম।
  7. প্রতিদিন এক পারা করে কুরআন তিলাওয়াত।
  8. রাত দশটার পর আর জেগে থাকা নয়।
  9. গেমস প্রতিদিন একঘণ্টা। রাত ৮ থেকে নয়টা।
  10. আম্মু আব্বুকে দাঁড়িয়ে সম্মান দেখাবে। তাদের কপালে চুমু দিবে।
  11. রাত আটটার মধ্যে পড়াশোনা বাড়ির কাজ শেষ করা।
  12. ঘরের সমস্ত আসবাব-পত্রের হেফাজতের দায়িত্ব সবার।
  13. আম্মু-আব্বু ছাড়া সবাই নিজের কাজ নিজেই করবে। অপরকে আদেশ করবে না।
  14. সবকিছুর উপর পরিবারের অগ্রাধিকার থাকবে। যে কোনও কিছুর আগে পরিবারের প্রয়োজন প্রথমে পুরণ করতে হবে।
  15. দরজায় টোকা ও অনুমতি ছাড়া একে অপরের কামরায় প্রবেশ করা হবে না।
  16. কোনও পরিস্থিতিতেই গলার আওয়াজ উঁচু করা যাবে না।
  17. সুস্থতাও পরিচ্ছন্নতা (দেহ পোশাক দাঁত নখ) ও শরীরচর্চাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।
  18. সবার সাথে উত্তম আচরণ সুন্দর ব্যবহার করা।

 

কত সুন্দর নীতিমালা! আসুন, আমরা সকলে সবার ঘরে একটা একটা গৃহসংবিধান তৈরি করি। সে অনুযায়ী নিজে চলি এবং পরিবারকে চালাই।

 

Comments

comments






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Facebook

Likebox Slider Pro for WordPress