Homeজান্নাত ও জাহান্নাম

এবারের প্রসঙ্গ : বিয়ে

এবারের প্রসঙ্গ : বিয়ে
Like Tweet Pin it Share Share Email

পত্র বা টেলিফোনে বিয়ে

উত্তর :

পত্র বা টেলিফোনের মাধ্যমে বিয়ে সহিহ হয় না। তবে এগুলোর মাধ্যমে বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার একটি পদ্ধতি রয়েছে। আর তা এরূপ : উভয় পক্ষের কোনো এক পক্ষ থেকে চিঠি বা টেলিফোনের মাধ্যমে এক ব্যক্তিকে নিজের উকিল বানাবে। তিনি উকিল হয়ে দুজন স্বাক্ষীর সামনে প্রস্তাব করবেন। অপর পক্ষ তখন কবুল করবে। তাতে বিয়ে হয়ে যাবে। তেমনিভাবে কনে টেলিফোনে বরকে নিজের বিয়ের উকিল বানাতে পারবে। তখন যদি বর দুজন স্বাক্ষীর সামনে বলে যে, অমুক মহিলা তার বিয়ের জন্য আমাকে উকিল বানিয়েছে। আমি তাকে এতটাকা মহরের বিনিময়ে বিয়ে করলাম। এতেও বিয়ে সহিহ হবে।
বিয়েতে কাবিন বা রেজিস্ট্রি বিধান

আমাদের দেশে যে কাবিন বা রেজিস্ট্রি হয়, শরিয়তের দৃষ্টিতে তা কতটুকু জরুরি

উত্তর :
শরিয়তের দৃষ্টিতে বিয়ের সময় সরকারি রেজিস্টারে কাবিন বা বিয়ের বিস্তারিত সবকিছু লিখে রাখা গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। স্বাক্ষীদের উপস্থিতিতে মহর ধার্য্য করে ইজাব কবুল হয়ে বিয়ে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। তবে রাষ্ট্রীয় আইন হিসেবে বা অন্যকোনো প্রয়োজনে কাবিন করা জায়েয। শরিয়তে এতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

আল-হামদু লিল্লাহ দ্বারা বিয়ে সম্পন্ন করার বিধান

উত্তর :
কবুল শব্দের পরিবর্তে আল-হামদু লিল্লাহ দ্বারাও বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়। তবে এ প্রথাটা পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এবং স্পষ্টভাবে আমি কবুল করলাম বলা উচিৎ। অর্থ্যাৎ কবুল শব্দ উচ্চারণ করাটাই অধিকতর শ্রেয়।

ছেলে বালেগ হলে পিতা-মাতার উপর সন্তানকে বিয়ে করানো উচিৎ কি-না

উত্তর :
হ্যাঁ । ছেলে মেয়ে বালেগ হওয়ার পর শরিয়তসম্মত কোনো বাধা না থাকলে এবং উপযুক্ত সম্বন্ধ পাওয়া গেলে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করা পিতা-মাতা ও অভিভাবকের দায়িত্ব। অন্যথায় ছেলে মেয়ে কোনো খারাপ কাজে লিপ্ত হলে পিতা বা অভিভাবকও গোনাহের অংশিদার হবে। হাদিস পাকে এ ব্যাপারে বিশেষ সতর্কবাণী এসেছে। এ ব্যাপারে কুরআনে কারিমেও বলা হয়েছে। যেমন :

শরিয়তের আলোকে পালিত ছেলে বা মেয়ের বিয়ের সময় পালক পিতার নাম উল্লেখ করে বিয়ে সম্পাদন

উত্তর :
জন্মদাতা পিতাই প্রকৃত পিতা। তাই সন্তানকে সবসময় তার জন্মদাতা পিতার সাথেই সম্পৃক্ত করতে হবে। শুধু লালন পালনের দ্বারা কেউ সন্তানের পিতা হয় না। যেমন আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন,
তরজমা : তোমরা তাদেরকে (জন্মদাতা) পিতৃপরিচয়ে ডাক। এটাই আল্লাহর তায়ালার কাছে ন্যায়সঙ্গত।
বিয়ের সময় পিতার নাম নেওয়া শরিয়তে জরুরি নয়। তবে নিতে হলে জন্মদাতা পিতার নামই উল্লেখ করে বিয়ে সম্পাদন করতে হবে।
দুজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে মেয়ে যদি দুজন স্বাক্ষীর সামনে প্রচলিত রেজিস্ট্রি ব্যতীত ইজাব-কবুলের মাধ্যমে বিয়ে সম্পাদন করে তাহলে শরঈভাবে তা বৈধ কি-না? যদি হয় তাহলে ওই মেয়ের অভিভাবক যদি তাদের মাঝে বিয়ে-বিচ্ছেদ ছাড়া অন্য কোথাও বিয়ে দেয়, তবে দ্বিত্বীয় বিয়ের হুকুম কি?
উত্তর:
যদি ছেলে মেয়ের মাঝে কুফু বিদ্যমান থাকে, অর্থ্যাৎ বংশ মর্যাদা, দীনদারী ও পেশার দিক দিয়ে ছেলে যদি মেয়ে থেকে নিচু না হয় তবে পিতা-মাতা রাজি হোক বা না হোক বিয়ে বিশুদ্ধ হবে। যদিও অভিভাবকের সম্মতি না নিয়ে এভাবে বিয়ে করাটা মেয়ের জন্য নিতান্তই গর্হিত কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। শরিয়তসম্মত কোনো কারণ না থাকলে এমতাবস্থায় পিতা-মাতা নারাজি প্রকাশ না করে এ বিয়ে মেনে নেওয়াই ভালো। এ অবস্থায় মেয়েকে অন্য কোথাও বিয়ে দিলে বিয়ে সহিহ হবে না। বরং আগের বিয়েই ঠিক থাকবে।
কিন্তু মেয়ে যদি অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া তারচে নিচু বংশের বা বখাটে বদ্দ¦ীনী ছেলের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তাহলে এ বিয়ে সহিহ হবে না। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকগণ মেয়েটিকে অন্যত্র বিয়ে দিতে পারবেন।
শরিয়তের দৃষ্টিতে বিয়ে সহিহ হওয়ার জন্য রেজিস্ট্রি জরুরি নয়। ঝগড়া ফাসাদ বেঁচে থাকার জন্য রেজিস্ট্রি করে নেওয়া ভালো।

অনেক জায়গায় দেখা যায়, বিয়েতে উকিল বাবা বানায়। বিয়ের পর উক্ত উকিল বাবার সাথে মেয়ে বেপর্দায় দেখা সাক্ষাত করে। শরিয়তে এর বিধান কি?
উত্তর :
বিয়ের সময় ছেলে বা মেয়ের পক্ষ থেকে উকিল নিয়োগ করা জরুরি নয়। বরং মেয়ে ওলি মেয়ের সম্মতিক্রমে মেয়ের পক্ষ থেকে স্বাক্ষীদের উপস্থিতিতে মহর ধার্য্য করে ছেলের নিকট বিয়ের প্রস্তাব দিলে এবং ছেলে কবুল করলেই বিয়ে সম্পাদন হয়ে যাবে। তবে যদি মেয়ের ও ওলি বিয়ের জন্য মেয়ের পক্ষ থেকে মেয়ের সম্মতিক্রমে অন্য কাউকে উকিল নিয়োগ করে এবং সে মজলিসে স্বাক্ষীদের উপস্থিতিতে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আর ছেলে তা কবুল করে তাহলে বিয়ে সহিহ হয়ে যাবে। তবে বিয়ের পর উক্ত উকিলকে উকিলবাপ ডাকা বা এ বিয়েকে কেন্দ্র করে তার সাথে বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তার সামসে বেপর্দাভাবে আশা-যাওয়া করা শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ না-জায়েয। বিয়ের কাজ শেষ হবার পরই উকিলের ওকালতি শেষ হয়ে যায়।

Comments (0)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *